Published : 05 Nov 2025, 02:42 PM
মুন্সীগঞ্জে ব্যাটারিচালিত রিকশার চালককে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
চালকের লাশ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি এম সাইফুল আলম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- সোহাগ মোল্লা (৪৩), জয় (৩১), ইমরান (৩০), হারুন (৫১) এবং আলী হোসেন (৪০)। তারা সবাই মুন্সীগঞ্জের বণিক্যপাড়ার এলাকার আশপাশের বাসিন্দা।
এই বিষয়ে বুধবার মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ওসি সাইফুল বলেন, নিহত মজিবল মাঝি (৪৪) ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক ছিলেন।
গত শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মুন্সীগঞ্জের বণিক্যপাড়ার বাদলের গ্যারেজ থেকে তিনি রিকশা নিয়ে বের হন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন তার ছেলে রাসেল মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় নিখোঁজ জিডি করেন।
পরে সোমবার সকালে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রতনপুর মধ্যপাড়া এলাকায় একটি ডোবায় বিছানার চাদর ও কম্বল পেঁচানো অবস্থায় ভেসে থাকা মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধারের পরে নিহতের স্বজনরা এসে সেটি মজিবল মাঝির লাশ বলে শনাক্ত করেন।
ওসি আরও বলেন, নিহতের দুই হাত ও দুই পা মোটা প্লাস্টিকের রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তাকে অন্যত্র হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তার ছেলে বাদী মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)-এর তত্ত্বাবধানে ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সজিব দে’র নেতৃত্বে একটি চৌকস তদন্ত টিম গঠন করা হয়।
তারা প্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা পুলিশের কাছে মজিবল মাঝিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
গ্রেপ্তাররা পুলিশকে জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘মাওয়া যাওয়ার’ কথা বলে মজিবল মাঝির রিকশায় ওঠেন। কিন্তু কৌশলে তাকে পঞ্চসার ইউনিয়নের তেলেরবিল এলাকার ইমরানের ভাড়াবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়ে অচেতন করে ফেলা হয়।
তাদের তথ্যের বরাতে ওসি বলেন, “সোহাগ গলায় রশি প্যাঁচিয়ে ধরে, ইমরান পা ধরে রাখে এবং জয় বুকের ওপর বসে কাঁচি দিয়ে আঘাত করে মজিবল মাঝিকে হত্যা করে। হত্যার পর লাশটি বিছানার চাদর ও কম্বলে পেঁচিয়ে সোহাগের অটোরিকশায় করে রতনপুর এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়।”
পরদিন আসামিরা নিহতের রিকশাটি হারুনের কাছে ৯৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে, পরে হাত বদল হয়ে তা রামসিং আলীর গ্যারেজে এক লাখ এক হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
ওসি আরও বলেন, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য গ্রেপ্তারদের বুধবার আদালতে উপস্থাপন করা হবে।