শহীদ মিনার নেই খুলনার ৭০ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

জেলার এক হাজার ১৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৭০০টিতে শহীদ মিনার নেই বলে জানান প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

খুলনা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Feb 2024, 01:41 PM
Updated : 20 Feb 2024, 01:41 PM

রাত পোহালেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস। এ দিনে শহীদ মিনারে গিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ। 

সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ বাধ্যতামূলক করা হলেও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে খুলনা। এ জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। 

কলাগাছ, কাঠ ও মাটি দিয়ে তৈরি অস্থায়ী শহীদ মিনার কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হয় এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। 

বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকার কারণ হিসেবে তহবিল ঘাটতির কথা বলছেন বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা। আর শহরের বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে জায়গার সংকটের কথা। 

এদিকে শিক্ষার্থীদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানতে ও এর তাৎপর্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পেতে বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণের ওপর জোর দিতে বলেছেন শিক্ষাবিদরা। 

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকা জরুরি। তবে শহীদ মিনার সরকারিভাবে বরাদ্দ না থাকায় তা হচ্ছে না। 

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয়ভাবে অনুদান সংগ্রহ করে শহীদ মিনার নির্মাণের পরামর্শ দেওয়া হয়; তবে স্থানীয়ভাবে অনুদান সংগ্রহ করা বেশ কঠিন বলে জানান তিনি। 

আলমগীর কবির বলেন, “যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই সেখানে কলাগাছ, কাঠ, মাটি দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা। এছাড়া শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা সভা করে থাকেন।” 

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম বলেন, দিবসটি যথাযথভাবে পালনের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে শিক্ষা দপ্তর থেকে শহীদ মিনার তৈরির জন্য কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয় না। আর শহরের বিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে জায়গা সংকট। 

জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে এক হাজার ১৫৯টি; যার মধ্যে প্রায় ৭০০ প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই বলে জানান তিনি। 

যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার আছে; তারা নিজেদের উদ্যোগেই তৈরি করেছেন বলে জানান অহিদুল আলম। 

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, শহীদ মিনার হলো ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিচিহ্ন। শিক্ষার্থীদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানতে ও এর তাৎপর্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে শহীদ মিনার হওয়া উচিত। 

“সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন খাতে প্রতিবছর অনুদান দিচ্ছে; যার একটি অংশ লুটপাট হয়ে যায়। অনেক বিদ্যালয়ে এসব খাতের টাকা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।”