বারোমাসি আমে ঝুঁকছেন বগুড়ার চাষিরা

ফলন নির্ভর করে আম গাছের উচ্চতার উপর। তবে প্রথম বছরেই প্রতিটি গাছে ১০-১২ কেজি আম হয়ে থাকে।

জিয়া শাহীনবগুড়া প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Nov 2022, 08:11 AM
Updated : 18 Nov 2022, 08:11 AM

অধিক লাভের কারণে বছরে তিনবার ফলনশীল আম চাষে ঝুঁকছেন বগুড়ার আম চাষিসহ স্থানীয়রা। প্রায় সারা বছরই গাছে আম শোভা পাওয়ায় এসব জাতকে বারোমাসি আমও বলে থাকেন অনেকে। 

জানা যায়, বগুড়ার গাবতলী, শাহজাহানপুর, শেরপুর উপজেলায় বারী-১১, কাটিমন ও সুইট কাটিমন জাতের আম চাষ দিন দিন বেড়েই চলছে। এছাড়া জেলায় ব্যক্তি পর্যায়েও অনেকেই এসব আম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। 

এই তিন জাতের আমের ২০০টি গাছ লাগিয়েছেন গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামের আম চাষি আব্দুল্লাহ আল রুহানী। তার বাগানের গাছে গাছে আম ঝুলছে। কোনটি খালি ডালে ঝুলছে, কোনটি আবার কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। 

রুহানী জানান, মুকুল আসার পর চার মাসে আম পাকা শুরু হয় এবং প্রতিটি গাছে ১০ কেজি আম পাওয়া যায়। 

তার বাগানের আম পাকা শুরু হয়েছে। ৫০০ টাকা কেজি দরে আম বিক্রিও শুরু করছেন বলে জানান এই আম চাষি। 

ধুনটের গোসাইবাড়ীর উত্তম ঠাকুর জানান, তিনি চারটি আম গাছ লাগিয়েছেন। আমগুলো কাঁচা ও মিষ্টি। অনেকেই তাই কাঁচা-মিঠা আম বলে থাকে। এছাড়াও এই আম অন্য জাতের আমের চেয়ে মিষ্টি ও সুস্বাদু।  

বগুড়া কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. এনামুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বারোমাসি আমগুলো থাইল্যান্ডের জাত। প্রথমে সরকারি পর্যায়ে এই গাছের চারা আমদানি করা হয়েছিল। পরে দেশেই হর্টিকালচারে চারা করা হচ্ছে। এছাড়াও ব্যক্তি পর্যায়েও চারা তৈরি করছেন অনেকে। 

তিনি জানান, এসব জাতের চারা রোপনের এক বছর পর থেকেই আম ধরতে থাকে। বছরে তিনবার আম ধরে। আম গাছের উচ্চতার উপর ফলন নির্ভর করে। তবে প্রথম বছরেই প্রতিটি গাছে ১০-১২ কেজি আম হয়ে থাকে। 

বগুড়ায় এই জাতের আম বাগান সবচেয়ে বড় শেরপুর ও গাবতলী উপজেলায়। তবে এই জাতের আমের শুধু বাগান নয়, ব্যক্তি পর্যায়েও এখন লোকজন বাড়িতে এই জাতের আম গাছ রোপন করছে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক