Published : 23 Aug 2025, 09:43 PM
সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর থেকে লুট হওয়া পাথর ফেরত দিতে তিন দিন সময় দিয়েছে প্রশাসন।
শনিবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সর্বসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একথা বলেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহ।
এদিকে সিলেটের গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্র ‘জাফলং’ জিরো পয়েন্ট থেকে পাথর লুটের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে উপজেলার পূর্ব জাফলং এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে গোয়াইনঘাট থানার পরির্দশক মো. কবির হোসেন জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মামার বাজার এলাকার মৃত শহীদ মিয়ার ছেলে আফজল হোসেন এবং লাখেরপাড় গ্রামের মন্তাজ মিয়ার ছেলে জাবেদ আহমদ।
পুলিশ জানায়, চলতি মাসের ৭, ৮ ও ৯ অগাস্ট টানা তিন দিনে জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ঘনফুট পাথর লুট করা হয়; যার বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় সোমবার ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল মুনায়েম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা করেন।
পরির্দশক মো. কবির হোসেন বলেন, পাথর লুটের মামলায় তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী সাংবাদিকদের বলেন, অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে লুট হওয়া পাথরের মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার ঘনফুট উদ্ধার করে পুনরায় প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
পাথর ফেরত দিতে তিন দিন সময় দিয়েছে প্রশাসন
সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘সাদাপাথর’ থেকে লুট হওয়া পাথর তিন দিনের মধ্যে ফেরত দিতে সময় দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
শনিবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সর্বসাধারণের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহ।
তিনি বলেন, “সাদাপাথরের সৌন্দর্য্য আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে সবার সহযোগিতা চাই। জেলা প্রশাসকের নির্দেশ, আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতি ওয়ার্ডের লোকজন যাতে সাদাপাথর ফিরিয়ে দেয়।
“যদি কেউ পাথর ফিরিয়ে না দেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষটি শনিবার বিকাল থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। তিন দিন পরে যদি কারো কাছে সাদাপাথর পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়ার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ-গোয়াইনঘাট সার্কেল এএসপি আব্দুল্লাহ আল নোমান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মতিন, কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুজন চন্দ্র, কোম্পানীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা কামাল হোসেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ফয়জুর রহমান, ইছাকলস ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন সাজু, চুনাপাথর আমদানি কারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, ক্র্যাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল, পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন, খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ মাসুম আহমদ, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক লিটন মাহমুদ।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিবলী আতিকা তিন্নির সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, কোম্পানীগঞ্জ যেহেতু পাথর অধ্যুষিত এলাকা তাই পর্যটন ও সংরক্ষিত এলাকা নির্ধারণ করে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনের জন্য লিজ দিতে হবে। তা না হলে অবৈধ পন্থায় পাথর উত্তোলন বন্ধ করা কঠিন হবে।
ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, বৈধ পন্থায় যারা পাথর আমদানি বা ক্র্যাশিং করছেন তাদের হয়রানি বন্ধ ও ক্র্যাশিং মিলের বৈদ্যুতিক সংযোগ ফিরিয়ে দিতে হবে।
পাথর লুটে এবার বিজিবির তদন্ত কমিটি
সিলেটের সাদাপাথর থেকে পাথর লুটপাটের ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির দায়িত্বে কোনো অবহেলা আছে কি-না এ বিষয় খতিয়ে দেখতে সদর দপ্তর উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
শনিবার দুপুরে জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখাল পর্যটনকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন বিজিবি-১৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার।
তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির বিষয়ে বিস্তারিত সদর দপ্তর থেকে জানানো হবে।
জুবায়ের আনোয়ার বলেন, “সাদাপাথর লুটপাটের সঙ্গে জড়িত মহল বিজিবি সম্পর্কে নানা ধরনের অপতথ্য প্রচার করছে। কিন্তু সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সার্বক্ষণিক টহল অব্যাহত রেখেছে। এ কারণেই বিজিবি ক্যাম্পের আওতাধীন সীমান্তের ৩০০ গজের মধ্যে এলাকাগুলো থেকে পাথর লুটপাট করতে পারেনি লুটেরারা।”
সাম্প্রতিক লুটপাটের পর বিজিবি সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে জনবল বৃদ্ধিসহ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে। গত দুই মাসে পাথর চুরিতে ব্যবহৃত ছয় শতাধিক বারকি নৌকা জব্দসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান মো. জুবায়ের আনোয়ার। ’
এদিকে, সাদাপাথর লুটের ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিবকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটি সরেজমিন তদন্ত শেষে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।