Published : 04 Mar 2026, 05:48 PM
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়াসহ আশপাশের এলাকার প্রায় সোয়া লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতালটি ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাড়েনি চিকিৎসকের সংখ্যা।
কনসালটেন্ট ১০টি ও জুনিয়র কনসালটেন্ট ১১টিসহ চিকিৎসকের মোট ২১টি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র পাঁচজন জুনিয়র কনসালটেন্ট। কিন্তু রোগীদের অভিযোগ, তারাও ঠিকমতো হাসপাতালে আসেন না ফলে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

এছাড়া রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার, নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিকের টেস্ট রিপোর্ট ছাড়া তারা দেখেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে ।
টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী গ্রামের রানা শেখ অভিযোগ করে বলেন, “রোববার সকালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে বসে থেকেও অর্থোপেডিক ডাক্তারের দেখা পাইনি।
“পরে গোপালগঞ্জ গিয়ে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অন্য অর্থোপেডিক ডাক্তার দেখিয়েছি। এতে সময় আর টাকা দুটোই অপচয় হয়েছে।”
এছাড়া চিকিৎসা নিতে আসা বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার কলাতলা গ্রামের আরাফাত হোসেন বলেন, “টুঙ্গিপাড়া হাসপাতাল আমাদের খুব কাছে। আমরা এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সেবাগ্রহণ করি। এখানে চিকিৎসকের সংখ্যা কম। তারপরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা নিয়মিত আসেন না। কিছু বললে আমাদের সাথে চিকিৎসকরা দুর্ব্যবহার করেন।”
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার সাচিয়া গ্রামের আবু আমের অভিযোগ করে বলেন, “বাড়ির কাছে বলে এখানে আসি। কিন্তু ডাক্তাররা তাদের বলে দেওয়া নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিকের রিপোর্ট ছাড়া দেখতে চান না। ফলে বাড়তি খরচ করতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালের ডাক্তাররা নিজেদের মনমতো কর্মস্থলে আসেন। মানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনাও উপেক্ষা করছেন তারা। এ বিষয়ে জরুরিভাবে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ”
মঙ্গলবার সরজমিনে দেখা যায়, বেলা ১১টা ১০ মিনিটে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ২০৭ নাম্বার কক্ষে প্রবেশ করছেন অর্থোপেডিক চিকিৎসক (জুনিয়র কনসালটেন্ট) কাজী করিম নেওয়াজ। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ২০৬ নাম্বার কক্ষের শিশু চিকিৎসক (জুনিয়র কনসালটেন্ট) আমামা আক্তারের কক্ষটি তালাবদ্ধ। পরে তাকে মোবাইলে কল দিলে ১১টা ৫০ মিনিটে নিজের কক্ষে আসেন তিনি।
গাইনি চিকিৎসক (জুনিয়র কনসালটেন্ট) শিপ্রা নন্দীর কক্ষটিও তালাবদ্ধ। কারণ সপ্তাহে মাত্র দুইদিন টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে আসেন তিনি।
চক্ষু চিকিৎসক (জুনিয়র কনসালটেন্ট) আবির মল্লিক হাসপাতালে নেই। আর এনেস্থেশিয়া বিভাগের (জুনিয়র কনসালটেন্ট) মো. শাহজাহানের পোস্টিং টুঙ্গিপাড়া হলেও তিনি সবসময় থাকেন মুকসুদপুর। তাই তাকেও পাওয়া যায়নি।
দেরিতে আসার বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে অর্থোপেডিক চিকিৎসক (জুনিয়র কনসালটেন্ট) কাজী করিম নেওয়াজ বলেন, “এক মাস হয়নি এখানে যোগদান করেছি। বেতন ভাতা নিয়ে দৌড়া-দৌড়ি করতে গিয়ে আসতে একটু দেরি হয়েছে।”

শিশু কনসালটেন্ট আমামা আক্তার বলেন, “একটু শরীর খারাপ থাকায় আসতে দেরি হয়েছে।”
আর গাইনি চিকিৎসক শিপ্রা নন্দী, চক্ষু চিকিৎসক আবির মল্লিক ও জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেস্থেশিয়া) মো. শাহজাহানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। এ কারণে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এসব বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর আহমেদ প্রথমে চিকিৎসকদের পক্ষে সাফাই গেয়ে পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “অর্থোপেডিক চিকিৎসকের বাসা দূরে হওয়াতে আসতে একটু দেরি হয়। আর শিশু ও চক্ষু চিকিৎসক ছুটির আবেদন করেছেন।”
যদিও আবেদনের কোনো লিখিত কপি দেখাতে পারেনি তিনি।
তিনি আরও বলেন, জুনিয়র কনসালটেন্ট শাহজাহানের মূল কর্মস্থল টুঙ্গিপাড়া হলেও আগের সিভিল সার্জনের নির্দেশে তিনি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে থাকেন, টুঙ্গিপাড়া আসেন না।
তবে অনিয়মিত চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। তাতেও তারা নিয়মিত না হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালের প্রধান তানভীর আহমেদ।