Published : 03 Jul 2026, 03:51 PM
খুলনার উপকূলীয় জনপদ কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ নদ তীরবর্তী উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মৎসঘেরে ব্যবহৃত লবণ পানি উত্তোলনের অবৈধ পাইপ অপসারণ না করেই চলছে কাজ।
এতে বেড়িবাঁধের পাইপসংলগ্ন একটি স্থানে ধসও নেমেছে। সেখানে জিওব্যাগ ও বাঁশের পাইলিং দিয়ে সাময়িকভাবে ধস ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া আরেকটি ছোট ধস এবং কয়েকটি স্থানে এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে ফাটল।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ নদসংলগ্ন বেড়িবাঁধের মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া থেকে হোগলা অভিমুখে ২৪০ মিটার সংস্কার করা হচ্ছে অনুন্নত রাজস্ব খাত (এনডিআর) প্রকল্পের আওতায়।
২৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যের প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আমিন অ্যান্ড কোং। তারা গত ৯ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু করেছে, শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে।
মহারাজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য দিদারুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ ছিদ্র করে পাইপের মাধ্যমে নদ থেকে লবণ পানি তোলা হয় মাছের ঘেরে। বেড়িবাঁধের ওই এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে ৩০-৩৫টি পাইপ রয়েছে। এর মধ্যে সংস্কারাধীন অংশেও চারটি পাইপ আছে।
“জোয়ার-ভাটার সময় পাইপের চারপাশ দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় মাটি সরে গিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে বাঁধ। অতীতে কয়েকবার বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা।”
দিদারুল বলেন, “বেড়িবাঁধের ভেতরে থাকা সব পাইপ অপসারণ করতে হবে। সঠিকভাবে বাঁধ নির্মাণ বা সংস্কার করা না হলে দীর্ঘস্থায়ী হবে না। অল্প সময়ের মধ্যে বাঁধ আবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে সরকারের অর্থের অপচয় হবে।”
তার অভিযোগ, গত কয়েক বছর বেড়িবাঁধের প্রকল্পগুলো নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দীর্ঘসূত্রতা স্থানীয়দের জানমালের নিরাপত্তা আরো ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। বেড়িবাঁধ সংস্কারের ও মেগাপ্রকল্পের নামে প্রতিবছরই সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বেড়িবাঁধের পাশ থেকেই মাটি কেটে ব্যবহার করা হয়েছে সংস্কার কাজে। ঢাল সংরক্ষণে ব্যবহৃত কয়েকটি জিওব্যাগে কাদাযুক্ত ও অপর্যাপ্ত বালু ভরা হয়েছে। বাঁধের ঢালও তৈরি করা হয়েছে খাড়া করে।
অবশ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা পলাশ দাবি করেছেন, নিয়ম মেনেই বেড়িবাঁধের সংস্কার কাজ করা হচ্ছে।
তবে পাইপের কারণে সংস্কারের পরও বেড়িবাঁধের একটি অংশ ধসে গেছে স্বীকার করে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়রা উপ-বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সোলাইমান হোসেন বলেন, সংস্কারাধীন বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঠিকাদারের মাধ্যমে পুনরায় মেরামত করা হচ্ছে।
সোলাইমান আরও বলেন, “যারা অবৈধভাবে বেড়িবাঁধ কেটে বা ছিদ্র করে নোনা পানির চিংড়ি চাষ করছেন, তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাপ্তরিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত বেড়িবাঁধের অবৈধ পাইপ অপসারণ করা হবে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়রা উপ-বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, আমরা একাধিকবার অবৈধ পাইপ অপসারণের চেষ্টা করেছি। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, দুর্যোগপ্রবণ এ এলাকার উন্নয়নে সরকারি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সংস্কারাধীন বেড়িবাঁধে ধসের বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও ঘেরমালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।