Published : 16 Sep 2025, 08:01 PM
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় একটি মন্দিরে দুর্গা পূজার প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ভাঙচুরকারীরা মন্দিরের সিসি টিভি ক্যামেরাও নিয়ে যায়।
মন্দির কমিটির নেতারা জানান, সরস্বতী ও কার্তিকের মাথা ও হাত এবং ময়ূর ভাঙা হয়েছে।
মিরপুর থানার ওসি শেখ মোমিনুল ইসলাম মঙ্গলবার বলেন, রোববার রাতে উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের স্বরূপদহ পালপাড়া শ্রীশ্রী রক্ষাকালী মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার পর জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনীর সদস্য ও রাজনৈতিক দলের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পূজায় নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মন্দিরের পাশের বাসিন্দা শীলা রানী বলেন, “রোববার রাত ৮টার দিকে হুট কইরে একবার কারেন্ট (বিদ্যুৎ) চইলে যায়। সে সময় গরম লাগায় আমি জানালা খুলি। তখনি অন্ধকারে মন্দিরের ভিতর থেকে কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। আমি জানালা না খুললে হয়ত ওরা সবগুলি প্রতিমাই ভাইঙে থুয়ে যাইত।”
কলেজ ছাত্রী সবিতা রানী বলেন, “এর আগে কখনই আমাদের এখানে প্রতিমা ভাঙার মত ঘটনা ঘটেনি। এবারই কারা রাতের আঁধারে প্রতিমাগুলি ভাঙল। কী একটা ঘটনা দ্যাখেন, এই প্রতিমা কারা ভাঙছে সেই প্রমাণ মুছতে সিসি ক্যামেরার সেটও খুইলে নিয়ে গেছে। আমার তো মনে হচ্ছে, ওরাই প্ল্যান কইরে কারেন্ট (বিদ্যুৎ) অপ করি, এই কাম কইরেছে। এ ঘটনার পর আমরা পরিবারের লোকজনও এখন ভয়ের মধ্যে আচি।”

মন্দির কমিটির সভাপতি অমরেশ ঘোষ বলেন, “আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। সোমবার থেকে প্রতিমায় রংয়ের কাজ শুরু করার কথা ছিল। এই সময়ে এমন ঘটনা আমাদের বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এমনটা তো হওয়ার কথা নয়, আগে কখনও হয়নি। এখন দেখি, প্রশাসনের স্যাররা এসেছেন। উনারা হয়ত একটা পদক্ষেপ নেবেন। যারাই এর সঙ্গে জড়িত থাক, তাদের শাস্তি চাই।”
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে মিরপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আব্দুল গফুর বলেন, “আমরা নিয়মিত দেখভাল এবং তদারকির ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল তারা সব সময়ই এ ধরনের কাজ করে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। ইসলাম এটা সমর্থন করে না। আমরা চাই, দ্বিধাহীন-বাধাহীনভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে তারা তাদের অনুষ্ঠান করুক।”
মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান বলেন, “এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজে যারাই জড়িত থাক, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।”
এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দেয়নি বলে জানান মিরপুর থানার ওসি শেখ মোমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, “প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় এখনও কেউ মামলা করতে আসেননি। পুলিশের পক্ষ থেকে বার বার তাগাদা দিলেও তারা কেউ বাদী হয়ে মামলা করতে রাজি হচ্ছেন না। তবে পুলিশ এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে মাঠে নেমেছে। জড়িতদের আটক করার পর তাদের জিজ্ঞাদাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনে পুলিশের পক্ষ থেকেই মামলা করা হবে।”

এ বিষয়ে মন্দির কমিটির সভাপতি অমরেশ ঘোষ বলেন, “দেখুন, আমরা এমনিতেই একটা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। এখন আবার কার না কার বিরুদ্ধে মামলা করব, তারপর দেখা যাবে, নতুন করে আবার আমাদের পরিবারের লোকজন হামলার শিকার হবে না তার কোনো ঠিক আছে? যা করার প্রশাসনই করুক।”
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছি। তবে এটাকে একেবারে ভাঙচুর বলা যাবে না। তবে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সিসি টিভিটা নিয়ে গেছে। ওই সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। বিদ্যুৎ ছিল না, অন্ধকারে লোকজন ছিল না। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। তদন্ত করছি। আমরা খুব শিগগির এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পারব।”