Published : 26 Jun 2025, 11:47 PM
খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দারকে সরাতে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
এ সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে শনিবার দুপুর ১২টা থেকে খুলনা অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। এমন দাবি জানিয়ে তারা কেএমপির সামনের সড়ক ছেড়েছেন।
এর আগে বিকাল থেকে কেএমপির সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে সড়কের দুইপাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
এসময় কেএমপির মূল অফিসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।
রাত সোয়া ৮টার দিকে কেএমপির সামনে ব্রিফিংয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহসমন্বয়ক ও খুলনা জেলার সদস্যসচিব সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, এসআই সুকান্তকে প্রথমে আটক করার পরও আইনি কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদেই তারা আন্দোলন করছেন।
তার অভিযোগ, “খুলনায় ‘খুনি’ আওয়ামী লীগের রক্ষাকর্তা হয়ে উঠেছেন কেএমপি কমিশনার। তার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।
”আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে আলটিমেটাম দিতে চাই, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই পুলিশ কমিশনারকে সরিয়ে দিতে হবে। তা না হলে শনিবার দুপুর ১২টা থেকে খুলনা অচল করে দেওয়া হবে।”
এরপর তারা সড়ক ছেড়ে চলে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। রাত পৌনে ৯টার দিকে কেএমপির মূল দপ্তরের প্রধান ফটকের তালা খুলে ফেলেন পুলিশ সদস্যরা।
এর আগে বুধবারও একই দাবিতে কেএমপি ঘেরাও করে বিক্ষোভ হয়েছিল।
মঙ্গলবার খুলনা নগরের ইস্টার্ন গেইট এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা এসআই সুকান্ত কুমার দাসকে আটকে মারধর করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। খুলনায় একটি মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে এ ঘটনার শিকার হন তিনি। পরে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।
এর প্রতিবাদে কেএমপি কমিশনারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়।
এদিকে সকালে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে এসআই সুকান্তকে গ্রেপ্তার করে কেএমপির একটি দল।
খুলনা সদর থানায় করা বাড়ি ভাঙচুরের মামলায় আলমডাঙ্গা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান কেএমপি কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার।
বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি বলেন, ”একজন সরকারি কর্মচারী গ্রেপ্তার সংক্রান্ত বিধি-বিধান অনুসরণ করতে সময় লেগেছে। তাকে খুলনায় আনা হচ্ছে এবং আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সুকান্তের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এরপর তাকে প্রথমে ঢাকায় এবং পরে চুয়াডাঙ্গায় বদলি করা হয়।
এবার খুলনা পুলিশ কমিশনারের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ
খুলনায় এসআইকে মারধর করে পুলিশে দেয় জনতা, ছেড়ে দেওয়ায় বিক্ষোভ-ঘেরাও
বাড়ি ভাঙচুরের মামলায় চুয়াডাঙ্গা থেকে এসআই সুকান্ত গ্রেপ্তার