Published : 18 Jun 2026, 07:48 PM
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়েছেন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন।
তিনি বলেন, স্থিতিশীলতার বিষয়টি শুধু প্রতিষ্ঠানটির বিষয় নয়; এটি জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ উপাদান’।
বুধবার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় জহির হোসেন এসব কথা বলেন বলে ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
চেয়ারম্যান বসানো নিয়ে অস্থিরতার মধ্যে রোববার ইসলামী ব্যাংকের পুরো পর্ষদ ভেঙে দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
শরিয়াহভিত্তিক এ ব্যাংকটিতে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয় কোরবানি ঈদের আগে। গেল ২৪ মে পদত্যাগ করেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান।
সেদিনই নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে বেছে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ঈদের পর এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ব্যাংকটির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল ব্যক্তি। ‘গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে তখন থেকে আন্দোলন করে আসছেন তারা।
চলমান অস্থিরতার মধ্যে গত কয়েক দিনে ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকরা তিন হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে বলে খবর আসে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা গড়ায় জাতীয় সংসদেও।
এ অবস্থায় ১০ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আশ্রাফুল আলমকে ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেয়। এর চারদিন পর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে জহির হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তার তিন দিন পর বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কর্মকর্তা ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা সরাসরি এবং সারা দেশের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হুসাইনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার ও এম কামাল উদ্দীন জসিম।
সভায় জহির হোসেন বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থায় একটি পদ্ধতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক। দেশের আমদানি-রপ্তানি, প্রবাসী আয়, বৈদেশিক বাণিজ্য, লাখ লাখ উদ্যোক্তার ব্যবসা এবং কোটি মানুষের আর্থিক কার্যক্রমের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
“তাই ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা শুধু আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়; এটি জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।”
তিনি বলেন, এ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং নিরলস পরিশ্রমের ফলেই ইসলামী ব্যাংক একসময় শুধু বাংলাদেশের নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একটি অনুকরণীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল।
“গত কয়েক বছরে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে এ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি কখনো হারিয়ে যায় না। সঠিক নেতৃত্ব, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেই শক্তিকে আবারও জাগিয়ে তোলা যায়।”
জহির হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় ব্যাংকের কার্যক্রম সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। যথাসময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি শক্তিশালী, দক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হবে।
ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সততা, দক্ষতা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান জহির হোসেন।