Published : 23 Jun 2026, 08:33 PM
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর ৩১টি চা বাগানকে চিহ্নিত করেছে, শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি বকেয়া থাকায় যেগুলো শ্রমিক অসন্তোষের ঝুঁকিতে রয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রুগ্ণ বা ‘সিক’ চা বাগান চিহ্নিত করার বিষয়ে বর্তমানে কোনো নীতিমালা নেই। ফলে বাংলাদেশ চা বোর্ডের পক্ষে কোনো বাগানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সিক গার্ডেন’ হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।
“তবে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কিছু চা বাগানের মালিক বাগান রেখে পালিয়ে যান। তাতে বাগান ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং অনেক বাগানে শ্রমিকদের মজুরি ঠিকভাবে পরিশোধ না হওয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়।”
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের ২০২৫ সালের ১৮ মে তারিখের প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উঠে আসার কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি জানান, এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে ঝুঁকিতে থাকা যে ৩১টি চা বাগানের নাম এসেছে, সেগুলো হল– তারাপুর, প্রেমনগর, বিজয়া, পাত্রখোলা, মাধবপুর, মদনমোহনপুর, কুরমা, চম্পারায়, বুরজান, ছড়াগাং, কাগাগুল, গুলনী, লোভাছড়া, লাক্কাতুরা, দলদলী, কেওয়াছড়া, ইমাম, বাওয়ানী, নোয়াপাড়া, দেউন্দি, লালচান, চণ্ডিছড়া, পারকুল, সাতছড়ি, ফুলতলা, মাথিউড়া, রাজনগর, আজগরাবাদ, মুরাইছড়া, মিরতিংগা ও দেওরাছড়া চা বাগান।
শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ ও শ্রম অসন্তোষ নিরসনে বাংলাদেশ চা বোর্ডের নেওয়া পদক্ষেপও সংসদে তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ চা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সহায়তায় বন্ধ হয়ে যাওয়া বুরজান ও ফুলতলা চা বাগান পুনরায় চালু করা হয়েছে।
শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধের জন্য চা বোর্ডের শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বুরজান ও ফুলতলা চা বাগানের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল টি কোম্পানির ১২টি বাগানের শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধের জন্য বাগানে মজুদ থাকা অবিক্রীত চা বিশেষ ব্যবস্থায় রপ্তানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চা শ্রমিকদের মজুরি ও শ্রমকল্যাণ বিষয়ে সরকার আন্তরিক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চা বাগানের শ্রমিকরা মজুরির পাশাপাশি রেশন, বিনামূল্যে চিকিৎসা, প্রাথমিক শিক্ষা, বাসস্থান, সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা, উৎসব ভাতা, পেনশন ভাতা, ভবিষ্য তহবিল, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ভাতা পান।
তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রতিটি চা শ্রমিক পরিবারের কাছে এই কার্ড পৌঁছানো গেলে তাদের জীবনমান উন্নয়ন ও কল্যাণে তা সহায়ক হবে।