জাবি ছাত্রলীগ: ১০ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না পেয়ে ক্ষোভ কর্মীদের

এবছরের ৩ জানুয়ারি কমিটির দুই সদস্যের নাম ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Nov 2022, 08:48 AM
Updated : 22 Nov 2022, 08:48 AM

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন পেলেও ১০ মাসে তা পূর্ণাঙ্গ হয়নি। ফলে চাপা ক্ষোভ, হতাশা নিয়ে দিনাতিপাত করছেন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগ কর্মীরা। 

এ বছরের ৩ জানুয়ারি জাবি শাখা ছাত্রলীগের দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। নতুন কমিটি গঠিত হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার নিয়ম থাকলেও এখনো তা করা হয়নি। 

এমন দীর্ঘসূত্রিতায় অনেক ছাত্রলীগ কর্মী সাংগঠনিক পরিচয় ছাড়াই তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করতে বাধ্য হবেন বলে শঙ্কায় আছেন। 

ছাত্রলীগের একাধিক সিনিয়র কর্মী অভিযোগ করেন, ঠিক কি কারণে কমিটি পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে না তা তাদের অজানা। কেন্দ্রীয় সংগঠনের প্রতি তাদের অনুরোধ, জাবি ছাত্রলীগের নেতৃত্ব বিকাশের পথ যেনো আরও মসৃণ করা হয়। 

এর আগে, ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর জুয়েল-চঞ্চলের নেতৃত্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কমিটি গঠিত হয়। যা ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল ২১৪ জন সদস্যকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ করা হয়। প্রায় ৫ বছর পর ২০২১ সালের অক্টোবরে জুয়েল-চঞ্চল কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। 

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবছর ৩ জানুয়ারি পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র আকতারুজ্জামান সোহেলকে সভাপতি ও দর্শন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান লিটনকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্য বিশিষ্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। 

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে নিয়মিত স্নাতকোত্তরে রয়েছেন ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থরা। 

এর পর গত ৪ থেকে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও হল কমিটি গঠনের লক্ষ্যে জাবি ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হয়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রনেতা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাত বছর ধরে নিষ্ঠার সাথে রাজনীতি করলেও অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে আমাদের। জানি না ঠিক কি কারণে কমিটি হচ্ছে না। এখানে ‘আর্থিক’ বিষয়াদি সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে। 

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গত ১০ মাস ধরে জাহাঙ্গীরনগরে ছাত্রলীগ মাত্র দু’জন নেতা বাকী প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী শুধুই কর্মী। অথচ কথা ছিলো তিন মাসের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির কাজ সম্পন্ন করা। যেখানে জীবনবৃত্তান্ত নেওয়া হয়েছে দুই মাস আগেই, তারপরেও কমিটি দিতে গড়িমসি। 

এভাবে চলতে থাকলে হাজারো কর্মীর ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়ে মারাত্মক পরিণতি হতে পারে বলে শঙ্কাও করেন এই ছাত্রলীগ কর্মী। 

এদিকে ৮ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের ৩০তম কেন্দ্রীয় সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন্দ্রে নতুন কমিটি আসলে আদৌ জাবি ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে কি না সেটা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছে অনেক কর্মী। 

পূর্ণাঙ্গ কমিটির ব্যাপারে জানতে চাইলে জাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কেন্দ্রে সম্মেলনের আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেয়ে যাব বলে আশা রাখছি। তবে সেটা কবে হবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না।” 

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ইন্দ্রনীল দেব শর্মা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “৮ ডিসেম্বরের সম্মেলনের আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে কী না তার কোনও নিশ্চয়তা নাই। তবে যদি সুযোগ পাওয়া যায় তাহলে হতে পারে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক