Published : 10 Mar 2026, 02:23 PM
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি-নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাবকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিবাদ করছেন রাজশাহীর গ্রাহকরা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে একটি আধা-সরকারি (ডিও) চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জানা যায়, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎমন্ত্রীর কাছে পাঠানো ডিও লেটার পাঠিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, নেসকোর অপারেশনাল এলাকা উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা সদর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমের চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং পূর্ব-দক্ষিণের পাবনা জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু সদর দপ্তর রাজশাহীতে হওয়ায় রংপুর বিভাগের অনেক অপারেশনাল কাজ সময়মত সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে নেসকোর সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মধ্যবর্তী অবস্থানে বগুড়া জেলা হওয়ায় সেখানে নেসকোর সদর দপ্তর স্থাপন করা হলে অপারেশনাল কার্যক্রমে গতি আসবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, ব্যয় সাশ্রয়, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে।
এ কারণে নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী।
এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ মার্চ বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানম সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয় অনুবিভাগ) মোহাম্মদ সানাউল হককে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন প্রতিনিধিকেও সদস্য হিসেবে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, নেসকোর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বগুড়ায় সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। এবারও যদি তেমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে এবং এতে সরকারেরই বদনাম হবে।”
তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ বিভাগে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। রাজশাহীতে কিছু মানুষ আছেন যারা এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার। প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় সরিয়ে নেওয়া হলে এসব বিষয়ে কথা বলার সুযোগ কমে যাবে। আমরা চাই, শিক্ষানগরী রাজশাহীতেই নেসকোর প্রধান কার্যালয় থাকুক। অন্যথায় রাজশাহীবাসী নেসকো রক্ষায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।”
তবে এ বিষয়ে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, “লোকমুখে এমন কথা শুনেছি। কিন্তু এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠিপত্র পাইনি। আমার কর্মকর্তাদের কাছেও জানতে চেয়েছি, তারাও কিছু জানাতে পারেননি। সরকার যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, সেভাবেই আমাদের চলতে হবে।”
বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানম বলেন, “একটি ডিও লেটারের পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি এক মাস বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেবে। এরপরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “রাজশাহী দেশের ঐহিত্যবাহী প্রাচীন একটি শহর ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। ব্রিটিশ আমলেও বিদ্যুৎ বিভাগের সদর দপ্তর রাজশাহীতে ছিল। রাজশাহী ব্রিটিশ আমলের বিভাগীয় প্রশাসনিক কেন্দ্র, দেশের গোটা উত্তরাঞ্চল ছাড়াও যার আওতাধীন ছিল বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মালদা, পশ্চিম দিনাজপুর ও জলপাইগুড়ি জেলাও। রাজশাহীর প্রশাসনিক মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। এ বিষয়ে আমি বিদ্যুৎমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই থাকবে।”