আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও মহাসড়কে হাট

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাজীপুরের শ্রীপুরের জৈনাবাজার, এমসি বাজার ও নয়নপুর বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে।

গাজীপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Feb 2024, 05:53 AM
Updated : 23 Feb 2024, 05:53 AM

আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও গাজীপুরের শ্রীপুরে উপজেলা প্রশাসন থেকে ইজারা নিয়ে মহাসড়ক ঘেঁষে হাট-বাজার বাসনো হয়েছে। আর এসব স্থাপনার কারণে মহাসড়কে যানজটের ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা।  

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত জৈনা, নয়নপুর ও এমসি বাজার তিনজনের নামে ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারাদাররা নিজেদের লোকের মাধ্যমে মহাসড়ক ঘেঁষে বসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে খাজনা তুলছেন।      

শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন মহাসড়কের জায়গা ঘেঁষে ইজারা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। আর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সড়ক বিভাগ, ব্যবসায়ী ও পুলিশ বলছে, তারা মহাসড়কের পাশে বসা এই বাজার সরানোর জন্য নানাভাবে চেষ্টা করেছেন; আদালতে রিট আবেদনও হয়েছে। কিন্তু বাজার উচ্ছেদ হচ্ছে না।

এর মধ্যে আগামী বছরের (বৈশাখ থেকে চৈত্র) জন্য নতুন ইজারার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। 

তিনটি বাজারের মধ্যে এমসি বাজারটি তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে পড়েছে। আব্দুল বাতেন সরকার ১০ বছর ধরে সেখানকার চেয়ারম্যান।

তিনি বলছিলেন, “এমসি বাজারের মহাসড়কের পাশে দোকান বাসানো হচ্ছে তা সড়ক ও জনপথের জন্য অ্যাকোয়ার করা জমি। জেলা-উপজেলা কালেক্টরি খাস বা বনবিভাগের জমিও নয়। এখানে কীভাবে বাজার বসিয়ে ইজারা নেওয়া হচ্ছে, তা আমার বোধগম্য নয়।”

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা নাসরিন বলেন, “সড়ক বিভাগের জায়গায় আমরা ইজারা দিইনি। তারপরও আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি, যদি হাট-বাজার সড়ক ও জনপথের জায়গায় বসে থাকে, তা হলে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

“এ ছাড়া কেউ সড়কের ওপর ভাসমান দোকান-পাট বসালে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে তা সরিয়ে দেওয়া হবে।”

মহাসড়ক নিয়ন্ত্রণরেখা ও আদালতের রায়

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জয়দেবপুর থেকে শ্রীপুরের জৈনা বাজার পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার এলাকা গাজীপুর সড়ক বিভাগের অধীন। ১৯৬৭-১৯৬৮ সালে জমি অধিগ্রহণ করে এ মহাসড়কটি নির্মাণ করা হয়।

সময় যত যাচ্ছে, এই মহাসড়কে যানবাহনের আধিক্য তত বাড়ছে। কারণ, গাজীপুরের চৌরাস্তার পর থেকে ভালুকা, ত্রিশাল উপজেলায় প্রচুর শিল্প, কল-কারখানা ও পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠছে। ফলে আগের মহাসড়কটি সংস্কার করে বর্তমান সরকারের সময়ে চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে।

এরপরও মহাসড়কের পাশে বেশ কিছু খালি জায়গা অবশিষ্ট রয়েছে। এর সুযোগ নিয়েছেন ইজারাদাররা। উপজেলা প্রশাসন থেকে তারা প্রতিবছর যে জায়গা ইজারা নেন তার বাইরে গিয়ে মহাসড়ক ঘেঁষে বাজার বসিয়ে ইজারাদাররা বাড়তি আয় করেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

চলতি সনের (বৈশাখ থেকে চৈত্র) জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আবু হানিফ উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এক কোটি ২৫ লাখ টাকায় (ভ্যাট-ট্যাক্সসহ) নয়নপুর এলাকার বাজার ইজারা নিয়েছেন। আর এমসি বাজার এক কোটি ৩৫ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন মো. ইব্রাহিম।

একইভাবে জৈনাবাজার এলাকা ইজারা নিতে মো. নাঈমকে উপজেলার প্রশাসনকে এক কোটি টাকারও বেশি দিতে হয়েছে।

এক বছর মেয়াদী এসব ইজারার সময় শেষ হতে আর কয়েকদিন মাত্র বাকি।

২০২১ সালের মহাসড়ক আইন অনুযায়ী, মহাসড়কের ওপর বা নিয়ন্ত্রণরেখার মধ্যে হাট-বাজার বসানোর কোনো সুযোগ নেই। আইনে নিয়ন্ত্রণরেখার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, মহাসড়কের সংরক্ষণ রেখা হতে সরকার কর্তৃক গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত রেখা।

আর আইনে মহাসড়কের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ১২ (ঘ) ধারায় বলা আছে, “মহাসড়কের জন্য বা যানবাহন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিতকরণপূর্বক উচ্ছেদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।”

এ ব্যাপারে কথা হলে একজন আইনজীবী বলেন, স্থানীয় প্রশাসন তার জায়গা ইজারা দিতে পারে কিংবা সেখানে বাজার বসাতে পারে। এতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু দেখতে হবে, সেটা যেন সড়ক বিভাগের জায়গা না হয় বা মহাসড়ক ঘেঁষে যেন সেই বাজার না বসে। ইজারাদাররা সেই কাজটি করে থাকে।

মহাসড়কে নির্বিঘ্ন চলাচল ও নিরাপত্তার স্বার্থে বাজার উচ্ছেদের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সম্প্রতি হাই কোর্টে একটি রিট মামলা করেছিলেন আইনজীবী এস এম বদরুল ইসলাম। তিনি একই সঙ্গে মহাসড়কে থাকা সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অবৈধ ভটভটি, নসিমন-করিমন জাতীয় যানবাহন অপসারণের নির্দেশনাও চেয়েছিলেন।

আবেদনটি নিয়ে ১৬ জানুয়ারি বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাই কোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হয়। বাদীপক্ষে আইনজীবী বদরুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় শুনানিতে অংশ নেন।

আইনজীবী বদরুল ইসলাম বলেন, “শুনানি শেষে বিচারক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে সব হাট-বাজার, স্থাপনা, ময়লার ভাগার ও অনুমোদনহীন যানবাহন অপসারণের রুলসহ নির্দেশ দেন।  তিন মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব অপসারণ করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

“ওইসব অপসারণে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না তার রুল জারি করেছে আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে সড়ক পরিবহন সচিব, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ, হাইওয়ে পুলিশের প্রধানকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।”

এর বাইরে তেলিহাটি ইউনিয়নের নগর হাওলা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম আব্দুল বারী মহাসড়কে চলাচল নির্বিঘ্ন করা এবং অবৈধ দোকানপাট সরানোর দাবিতে আরও একটি রিট মামলা করেছেন।

সেই রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার হুসনী মোবারক সুমন বলেন, “এরই মধ্যে শুনানি শেষে আদালত একটা আদেশ ও রুল দিয়েছে। তবে বিচারক এখন স্বাক্ষর করেননি। যে কারণে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। আশা করি, আগামী সপ্তাহেই শুরুতেই সেটা পাওয়া যাবে।”

হুসনী মোবারক সুমন বলেন, “আদালত ইজারা বন্ধ করতে বলেনি। কারণ, ইজারা বৈধ। কিন্তু এখানে যে বাজার বসছে সেখানে প্রশাসনের জমি নেই। ফলে মহাসড়কের পাশে বাজার বসানো অবৈধ।” 

ব্যবসায়ীরা যেভাবে ইজারা দেন

নয়নপুর, জৈনা ও এমসি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বাজারেই সড়কের পাশ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে দোকান। খোলা জায়গায় অনেকে ত্রিপলের শামিয়ানা টাঙ্গিয়ে বাঁশ-কাঠ দিয়ে কাঠামো তৈরি করেছেন। কেউ কেউ খোলা জায়গাতেই নিজের দোকান বসিয়ে বেচাকেনা করছেন। শাক-সবজি, শুঁটকি, মনোহারির বাইরে পোশাকের দোকানও রয়েছে। দুপুরের পর থেকে মধ্যরাত অবধি এই বাজার চলে। প্রতিটি বাজারে এমন ৪০ থেকে ৫০টি খোলা দোকান রয়েছে। 

বাসগুলো অনেকক্ষেত্রে দোকানের এক-দুহাত দূরে দাঁড়িয়েই যাত্রী উঠাচ্ছে-নামাচ্ছে। বাজারে স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতাদের ভিড় থাকে। এর মধ্যেই চলছে যানবাহন।  

জৈনাবাজার এলাকায় একটি অস্থায়ী কাঠামোতে বসে ব্যবসা করেন শুটকি ব্যবসায়ী মো. আল আমিন। তিনি বললেন, এ ব্যবসার জন্য এককালীন ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে ইজারাদারকে। এ ছাড়া দৈনিক তাকে সাড়ে ৩৫০ টাকা দিতে হয়। সন্ধ্যার পর ইজারাদারের লোকজন দোকানে এসে সেই টাকা নিয়ে যায়।

“বৃষ্টি-বাদল যাই হোক, ব্যবসা হোক আর না হোক প্রতিদিনের দোকান ভাড়ার টাকা আমাদের দিতেই হয়।”

এ বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “আমি এককালীন পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছি। তারপর দৈনিক ৩৫০ টাকা দিতে হয়।”

দোকানের জায়গাভেদে এককালীন টাকা কমবেশি হয় বলে জানান নয়নপুর বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন। তিনি এককালীন ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন ইজারাদারকে। এ ছাড়া দৈনিক ৪৫০ টাকা করে দেন।

একই বাজারের আরেক কাঁচামাল ব্যবসায়ী বলেন, তার কাছ থেকে এককালীন ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। আর দৈনিক ৩৫০ টাকা দিতে হয় তাকে।

এমসি বাজারের ব্যবসায়ীরাও একই তথ্য জানিয়েছেন। তাদেরকেও দোকান বসানোর জন্য এককালীন জমা ও দৈনিক নগদ টাকা ইজারাদারকে দিতে হয়।

মহাসড়কের পাশে বাজার বসিয়ে ইজারা আদায়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামসুল আলম প্রধান বলেন, “এখানে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী ইজারা হয়। ইউএনও এর দায়িত্বে। আমার জানা মতে, সরকারের নীতিমালার বাইরে ইজারা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

“বাজার হয়তো ইজারা নিয়েছে, কেউ কেউ পরে রাস্তার মধ্যে চলে আসে। সেটা ভেঙে দেওয়া হয়। আমরা গত জেলা কমিটির সভায় এটা নিয়ে আলোচনাও করেছি। কোনোভাবেই যেন এটি না হয়।”

সড়কের পাশে টং দোকান বা বাজার বসিয়ে ইজারা আদায়ের অভিযোগের ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, “এটা ইউএনও, এসি ল্যান্ড বলতে পারবেন।”

যানজটের ভোগান্তি

স্থানীয়রা জানান, ব্যস্ত এ মহাসড়ক দিয়ে দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই গাড়ি চলে। দিনের বেলায় যাত্রীবাহী পরিবহন আর রাতে পণ্যবাহী পরিবহন বেশি চলে। এর বাইরে স্থানীয় অটোরিকশা, ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশার আধিক্য তো রয়েছেই।

বিশেষ করে রমজান, দুই ঈদ এবং বিভিন্ন উৎসবের মধ্যে দোকানের আধিক্য থাকে। তখন অনেক ক্ষেত্রে সড়কের ওপর দোকান বসে লেনও দখল করে ফেলে। আবার এই সময়ে সড়কে গাড়ির চাপও বাড়ে। ফলে বাজার এলাকাগুলোতে পরিবহনের গতি অন্যান্য জায়গার তুলনায় ধীর। যানজটে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়।  

ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-শেরপুর, ঢাকা-নেত্রকোণায় চলাচলকারী অন্তত পাঁচজন যাত্রীবাহী বাসের চালকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এই তিনটি বাজার তাদের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’।  

ঢাকা-নেত্রকোণা পথের শাহজালাল পরিবহনের একজন চালক বলছিলেন, “ঢাকা থেকে গাড়ি ছেড়ে আসার পর বিআরটিএর কাজের জন্য আব্দুল্লাহপুর থেকে চান্দিনা চৌরাস্তা পর্যন্ত এমনিতেই সড়কে ধীরগতি। চৌরাস্তায় পেরিয়ে আসার পর একটু ফাঁকা পাওয়া যায়। কিন্তু শ্রীপুরের কিছু অংশে সড়ক থাকায় তাদের ভোগান্তি বাড়ছেই। অনেক সময় খেয়ে নেয়।” 

শেরপুরের পথে চলাচলকারী একটি পরিবহনের চালক বলেন, “শ্রীপুর ও গাজীপুর চৌরাস্তার অংশটুকু অতিক্রম করতে ঢাকা ও ময়মনসিংহগামী যানবাহনকে স্বাভাবিক সময়ে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ব্যয় করতে হয়। কোনো কোনো সময় সেটা চার ঘণ্টাও লাগে।”

তিনি সড়ক থেকে অবৈধ বাজারের পাশাপাশি অবৈধ যানবাহনও উচ্ছেদের কথা বলেন।

এ ছাড়া ইদানিং স্থানীয় শিল্প-কারখানার ব্যবহার্য বর্জ্য এনে মহাসড়কের উপর ডাম্পিং করা হচ্ছে, এতেও দুর্ভোগ বাড়ছে পথচারীদের। দুর্ঘটনার ঝুঁকি তো রয়েছে। 

তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন সরকার বলেন, “মহাসড়কের গাজীপুর অংশটি দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি কারণ মহাসড়কের লেন দখল করে গড়ে উঠা বাজার। একদিকে লেন দখল করে বাজারের ফলে যানজটের তৈরি হয় সর্বত্রই। এ ভোগান্তি দূর করতে এসব বাজার উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।”

সড়ক বিভাগ ও পুলিশ যা বলছে

গাজীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কে এম শরিফুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, “এখানে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো জায়গা নেই। পুরোটাই সড়ক বিভাগের জায়গা। সড়কের আইনেও এখানে কোনো বাজার বসানোর সুযোগ নেই।

“এসব বাজার গড়ে ওঠায় অনিরাপদ হয়ে উঠছে এই মহাসড়ক। আমরা এর আগে এসব বাজার উচ্ছেদও করেছি। তবে আমাদের প্রত্যাশা, স্থানীয় প্রশাসন সড়কের জায়গা নিরাপদ করতে ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধ রাখবে।”

উচ্ছেদের ব্যাপারে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে শ্রীপুরের মাওনা মহাসড়ক পুলিশের ওসি শেখ মোহাম্মদ মাহবুব মোর্শেদ বলেন, “রাস্তার ওপর পুলিশ কি দিনে-রাতে বসে থাকতে পারে? আমরা যতক্ষণ পারি চেষ্টা করে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

“আমি বড় বড় সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দিয়েছি, লাভ কি? রিপোর্ট আসার পরও কোনো কাজ করতে পারছে না। তারপরও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

ইজারাদারদের ভাষ্য

এমসি বাজারের ইজারাদার মো. ইব্রাহিম বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বাজার ইজারা নিয়েছি। গত বৈশাখ থেকে আগামী চৈত্র মাস পর্যন্ত এর মেয়াদ রয়েছে। এ বাজারের কিছু অংশ মহাসড়কের জমির ওপর স্থাপিত। এখানে বাজারের আলাদা কোনো জমি নেই।”

একইভাবে জৈনা বাজার এবং নয়নপুর বাজারও স্থাপন করা হয়েছে বলে এমসি বাজারের ইজারাদারের ভাষ্য।

নয়নপুর বাজারের ইজারাদার ব্যবসায়ী মো. আবু হানিফ বলেন, “এবারই প্রথম আমি এ বাজার ইজারা নিয়েছি। আমার সময় প্রায় শেষ হয়ে বসেছে। আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে নতুন বছরের ইজারার জন্য আবার শিডিউল বিক্রির নোটিস দিয়েছে শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন।”

জৈনাবাজারের ইজারাদার মো. নাঈম বলেন, “ইজারার মোট টাকার পরিমাণটি মনে আসছে না। তবে এক কোটি টাকার কিছু বেশি হবে।”