আদালতের আদেশে হেমা-শ্যামের মিলন

দশ মাস পর স্ত্রীকে কাছে পেয়ে আদালতের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শ্যাম।

রংপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Nov 2022, 11:49 AM
Updated : 14 Nov 2022, 11:49 AM

পরিবারের অমতে বিয়ে করায় নানা চড়াই উৎরাই পেরোতে গিয়ে সংসার শুরু করতে পারেনি শ্যাম সুন্দর রায় ও হেমা শর্মা। এর মধ্যে হেমাকে তার পরিবার নিয়ে যায়। এরপরই স্ত্রীকে ফিরে পেতে শ্যামের যুদ্ধ শুরু হয়।

স্ত্রীকে ফিরে পেতে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাঁপ করে ব্যর্থ হন বদরগঞ্জ উপজেলার ২৪ বছর বয়সী এ তরুণ। অবশেষে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মিলন ঘটেছে শ্যাম-হেমা দম্পতির।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার হেমাকে তার স্বামী শ্যামের কাছে তুলে দেওয়ার আদেশ দেন। দশ মাস পর স্ত্রীকে কাছে পেয়ে আদালতের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শ্যাম।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় শ্যাম সুন্দর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হাইকোর্টে আমি ন্যায্য বিচার পেয়েছি। এ জন্য আমাকে অনেক কষ্ট ও ধৈর্য ধরতে হয়েছে। দীর্ঘদিন পরে আদালতের নির্দেশে স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ায় ভীষণ খুশি হয়েছি।”

হেমা শর্মা বলেন, “আদালতের মাধ্যমে স্বামীর কাছে ফিরে যেতে পেরেছি, এর চেয়ে খুশির আর কিছু নেই। এটা আমার বড় আনন্দের বিষয়।”

শ্যাম সুন্দরের আইনজীবী তাজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বদরগঞ্জ পৌর শহরের মাস্টারপাড়া গ্রামের দীজেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে শ্যামের সঙ্গে পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার হেমার (১৮) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে হেমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তার পরিবার রাজি হয়নি। পরিবারের অমতে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি হেমাকে অন্যত্র নিয়ে বিয়ে করেন শ্যাম ।

এর আগে মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে উল্লেখ করে ১২ জানুয়ারি বদরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে হেমার পরিবার। এরপর পুলিশ নীলফামারী থেকে গত ১৪ জানুয়ারি হেমাকে উদ্ধার করে তার মায়ের হাতে তুলে দেয়। তখন থেকে মেয়েটি পরিবারের কাছেই ছিলেন।

এদিকে স্ত্রীকে ফিরে পেতে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাঁপ করে ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে শ্যাম গত ৩১ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, শ্যাম সুন্দরের বয়স ২২ বছর, আর হেমার বয়স ১৯ বছর। দুজনের বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জে। হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা ২০১৩ এর বিধি ২২(১)(ক) অনুযায়ী দুজনের বিয়ে নিবন্ধিত হয়। কিন্তু বিয়ের পরদিনই শ্যামের স্ত্রীকে তার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাইকোর্ট ওই আবেদন আমলে নিয়ে পরিবারের সদস্যসহ হেমা শর্মাকে সশরীরে আদালতে হাজির করার জন্য রংপুরের পুলিশ সুপারের মাধ্যমে বদরগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন এবং ১৩ নভেম্বর শুনানির দিন নির্ধারণ করে।

সেই অনুযায়ী নির্ধারিত দিন রোববার পুলিশ তাদের হাইকোর্টে হাজির করে। শুনানি শেষে বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দ হেমা শর্মাকে স্বামীর হাতে তুলে দেওয়ার আদেশ দেন।

বদরগঞ্জ থানা-পুলিশের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন থানার এএসআই অরুপ রায়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকাশ্য আদালতে হেমা শর্মাকে তার স্বামী শ্যাম সুন্দর রায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক