Published : 23 Mar 2026, 09:57 PM
রোজার ঈদের লম্বা ছুটিতে পর্যটক বেড়েছে পটুয়াখালীর সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এখানে অবকাশ যাপনে ছুটে এসেছেন।
পর্যটনকেন্দ্রের বিলাসবহুল হোটেল-মোটেলের প্রায় শতভাগ বুকিং রয়েছে- এমনটাই জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
ভ্রমণ পিপাসুদের উপস্থিতি শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল মোতালেব শরীফ।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এবারের লম্বা ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকের ব্যাপক চাপ রয়েছে। এবারের ঈদ মৌসুমে পর্যটন ব্যবসায়ীরা একটু লাভের মুখ দেখবেন।”
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “পর্যটকদের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় আমরা ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা বেশ তৎপর রয়েছি। এ ছাড়া নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরাও মাঠে কাজ করছেন। বাড়তি নিরাপত্তার জন্য সাদা পোশাকেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নজরদারি করছেন।”

এদিকে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টসহ দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার সৈকত পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠেছে। পাশাপাশি তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লী, রাখাইন পল্লী, রাখাইন মার্কেট, ঝাউবন, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত পয়েন্ট, গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়ার চরে পর্যটকদের সরব উপস্থিতি রয়েছে।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলেন, ঈদের দিন ও দ্বিতীয় দিন পর্যটকের সংখ্যা কম থাকলেও সোমবার ব্যাপক হারে বেড়েছে। পর্যটকরা সৈকতের বালিয়াড়ীতে হইহুল্লোরে মেতেছেন। অনেকে সমুদ্রের ছোট বড় ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালীতে মেতেছেন। কেউবা সৈকতের বেঞ্চিতে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
অনেকে আবার প্রিয়জনকে নিয়ে ছবি তুলে কিংবা ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। শিশুরা বালু নিয়ে খেলায় মেতেছে। মোটরবাইক, ওয়াটারবাইক ও ঘোড়াসহ বিভিন্ন বাহনে চরেও আনন্দ করছেন অনেকে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, অনেকদিন পর কুয়াকাটায় এমন পর্যটকের ভিড় দেখা যাচ্ছে। এখানে প্রায় ১৬টি পেশার মানুষ সরাসরি পর্যটন ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা সবাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং আয়-রোজগারও বাড়ছে।
হোটেল খান প্যালেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল খান বলেন, “নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত পর্যটক মৌসুম। জাতীয় নির্বাচন ও রমজানের কারণে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। আমরা যারা হোটেল মালিকরা আছি, সবাই হতাশাগ্রস্ত ছিলাম। এ সময় হোটেল পরিচালনা করতে বেগ পেতে হয়েছে। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের ব্যাপক চাপ রয়েছে। আশা করছি, সেই লোকসান পুষিয়ে যাবে।”
যশোর থেকে আসা রিয়াদ হোসেন ও তন্বী আক্তার দম্পতি বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে কুয়াকাটায় বেড়াতে এসেছেন। এখানে অনেক মানুষ। পরিবেশটা তাদের দারুন লাগছে। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে সমুদ্রের গর্জন।

ঢাকা থেকে আগত পর্যটক সোহান ইসলাম বলেন, “পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই প্রথম কুয়াকাটায় ট্যুরে আসলাম। বেশ দারুন এক অনুভূতি। সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাচ্ছে শিশুরা। তারা সৈকতে বালু নিয়ে খেলায় মেতেছে। আমরাও গোসলে নামছি।”
কুয়াকাটা জয় হোটেলের (রেস্টুরেন্ট) মালিক গণেশ দাস বলেন, চলতি পর্যটন মৌসুমে পর্যটক ছিল না বললেই চলে। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের বেশ আনাগোনা চলছে। পর্যটকদের সেবা দিতে তার কর্মচারীরা ব্যস্ত সময় পার করছে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে বেচাবিক্রি।
সৈকতের দোকানি আলী রিয়াজ বলেন, রকমারী আচারের প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ আছে। তাই বেচাবিক্রি বেশ ভালই চলছে। রাত ১২টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে হয়।