শিশু ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে ১০ বছর বয়সি শিশুটি ১২ মার্চ অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং শারীরিক পরিবর্তন দেখে মায়ের জিজ্ঞাসায় ধর্ষণের কথা জানায়।
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে ১০ বছর বয়সি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার পলাতক মূল আসামি থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। শিশুটি এখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
শুক্রবার রাত পৌনে ১টার দিকে মোহনগঞ্জ থানায় এসে তিনি আত্মসমর্পণ করেন বলে জানিয়েছেন মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন।
আত্মসমর্পণ করা মহন তালুকদার (২৫) মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে। তিনি পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ধর্ষণের অভিযোগের পর তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়।
মহন তালুকদার স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আত্মসমর্পণ করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, শিশুটির বাবা দিনমজুর, জীবিকার তাগিদে তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করেন। মা স্থানীয় বাসাবাড়িতে কাজ করেন। তাদের তিন মেয়ে।
গত বছরের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে গেলে ঘরে শিশুটি ও তার দুই ছোট বোন ছিল।
এ সময় প্রতিবেশী মহন তালুকদার ঘরে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। ভয়ে শিশুটি ঘটনাটি দীর্ঘদিন গোপন রাখে।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ১২ মার্চ শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখা দিলে তার মা তাকে জিজ্ঞাসা করেন। এ সময় শিশুটি ধর্ষণের ঘটনার কথা জানায়।
পরদিন স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাফি করালে রিপোর্টে শিশুটির ১৩ সপ্তাহের গর্ভধারণের তথ্য পাওয়া যায়। ১৫ মার্চ অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও একই ধরনের রিপোর্ট আসে।
সেদিন আইনি সহায়তা নিতে পরিবারটি মোহনগঞ্জ থানায় গেলে আদালতে অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ২৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগ করেন।
আদালত মোহনগঞ্জ থানাকে মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে ২ মে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি থানায় নথিভূক্ত (রেকর্ড) করা হয়।
ওসি বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকেই আসামি মহন তালুকদার গা ঢাকা দিয়েছিলেন। পরে শুক্রবার রাতে তিনি থানায় আসেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে নেত্রকোণা বিচারিক আদালতে পাঠানো হবে।
