Published : 05 Mar 2026, 05:44 PM
ময়মনসিংহে রেলওয়ের জমি দখল করে হাঁস-মুরগী ও গরু-ছাগলের খামার গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা বলছেন, উদ্দেশ্য খামার নয়, জায়গা দখলের।
উচ্ছেদের নোটিস পাওয়ার পরও ওই ব্যক্তি জায়গা ছাড়ছেন বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে জমি দখলে নেওয়া ব্যক্তির দাবি, তিনি জমি লিজ নিতে রেলওয়ে বিভাগে আবেদন করেছেন।
জমি উদ্ধারে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার কথা বলেছেন ঢাকা বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন পুলিশ ও জিআরপি পুলিশ কার্যালয়ের বিপরীত পাশে ৩০ শতাংশ জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে খামার। তিন মাস ধরে রেলওয়ের জমিতে গড়ে তোলা খামারটিতে গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগী লালন পালন করছেন স্থানীয় শহীদ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি।
তার দাবি, লিজের আবেদন করেই চারদিকে বেড়া দিয়ে গড়ে তুলেছেন খামার। আর এতে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার দাবি করেছেন শহীদ উদ্দিন।
তিনি বলেন, “পারিবারিক খামার গড়ার লক্ষে জায়গাটি বেছে নিয়েছি। জমিটি লিজ নিতে আবেদনও করেছি। তবে তারা লিজের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।”

লিজের সিদ্ধান্তের আগেই কেন খামার গড়ে তুলেছেন, এমন প্রশ্নেন জবাবে শহীদ উদ্দিন বলেন, “স্পেশাল এবং সুস্বাদু মাংস সরবরাহের জন্য দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা থেকে খামারটি করা হয়েছে। এখানে খারাপ কিছু তো হচ্ছে না। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ছাড়া বেকারদেরও কর্মের সুযোগ করে দিয়েছি।”
খামারটিতে ২০টি ছাগল, ২২টি ভেড়া, ৩৮টি হাঁস, ১৫টি মুরগী এবং দুটি গরু দেখা গেছে। ছাগলের পাশাপাশি মানুষের থাকার জন্য সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে ঘরও। এ ছাড়া হাঁস রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাটি খুঁড়ে খানিকটা জায়গায় করা হয়েছে পুকুর। চারদিকে প্লাস্টিকের বেড়ার কারণে মানুষের চলাচলে কিছু বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নূর উদ্দিন বলেন, “স্টেশন সংলগ্ন জায়গাটি দখল করে খামার গড়ে তোলায় বিষয়টি অত্যন্ত দৃষ্টিকটু দেখা যাচ্ছে। একজন মানুষ কীভাবে এত সাহস নিয়ে সরকারি জায়গায় খামার করছেন।
“এখানে স্টেশন মাস্টার, রেলওয়ে থানার ওসি, জিআরপি পুলিশ রয়েছে। এটি যদি দ্রুত বন্ধ না করা হয়, তাহলে রেলের জায়গা দখলে মানুষ আরও উৎসাহিত হবে।”
খামারে কাজ করা শ্রমিক মানিক মিয়া বলেন, “রেলের জায়গায় খামার হলেও আমাদের কর্মসংস্থান হয়েছে। এখানে কাজ করে চলতে পারছি। পরিবারকেও একটু সহযোগিতা করা যাচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, “কয়েক মাস ধরেই দেখছি, জায়গাটি দখলের পাঁয়তারা হচ্ছে। এখন পুরোপুরি দখল হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যে জায়গাটিতে খামার করছে, সে আসলে কীভাবে কি করল। আমাদের মতে এখানে জায়গা কারো লিজ নেওয়ার সুযোগ নেই।”

ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, “চোখের সামনে রেলের জায়গায় খামার তৈরি করা হয়েছে, তা দেখছি কিন্তু কিছু করতে পারছি না। নিয়ম অনুযায়ী ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা বরাবর লিখিত দিয়েছি। শুনেছি তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।”
ঢাকা বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেন, “দখলকারী শহীদ উদ্দিনকে নোটিস করা হয়েছিল ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য। কিন্তু নির্ধারিত দিন মঙ্গলবারে তিনি হাজির হননি।
“এরপর ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের লোকজন গিয়ে আবারও সেই জায়গার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে। খুব দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে তা উচ্ছেদ করব।”