১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোটে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ না হলে আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারি সিপিবি প্রার্থীর

সিলেট-১ আসনে সিপিবি প্রার্থীর দাবি, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তার প্রচারের বিলবোর্ড অপসারণ করা হলেও অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে একই বিধি প্রয়োগ করা হচ্ছে না।

সিলেট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Feb 2026, 10:05 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:52 PM

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত না হলে আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিলেট-১ আসনে কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির প্রার্থী আনোয়ার হোসেন সুমন।

বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সিপিবি প্রার্থীর অভিযোগ, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তার প্রচারণার বিলবোর্ড অপসারণ করা হলেও অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে একই বিধি প্রয়োগ করা হচ্ছে না।

তবে অভিযোগের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, “এ বিষয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই।”

সংবাদ সম্মেলনে কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী সুমন বলেন, তিনি আইনসম্মতভাবে ২০টি বিলবোর্ড স্থাপন করেছিলেন। নির্বাচনি আচরণবিধি পর্যালোচনা করে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন, বিধিমালার ১৪ নম্বর দফায় বিলবোর্ডের ক্ষেত্রে রঙিন হওয়া নিষিদ্ধ এমন কোনো নির্দেশ নেই। 

একইভাবে বিধিমালার ৭ নম্বর দফার বিভিন্ন উপদফায় অন্যান্য ব্যানার ও ফেস্টুনের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা বিলবোর্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলে দাবি সিপিবি প্রার্থীর।

তিনি বলেন, “এসব বিষয় যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়। গত ২২ জানুয়ারি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করার পরই বিলবোর্ডগুলো স্থাপন করা হয়। এরপরও কোনো ধরনের নোটিস বা পূর্ব বার্তা ছাড়াই পুলিশ পাঠিয়ে আমার বিলবোর্ডগুলো খুলে ফেলা হয়। 

“প্রথমে ধারণা করেছিলাম, দুর্বৃত্তরা এ কাজ করেছে। পরে নিশ্চিত হই, প্রশাসনের পক্ষ থেকেই বিলবোর্ডগুলো অপসারণ করা হয়।”

সিপিবি প্রার্থী সুমনের অভিযোগ, “সিলেট মহানগরে দুইজন প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রতিটি ওয়ার্ডে দুই থেকে তিনশ বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছে ফেস্টুন লাগানো, নির্ধারিত সাইজ অমান্য করা এবং অটোরিকশায় পোস্টার লাগানোর মতো একাধিক অনিয়ম হলেও প্রশাসন বা রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

“সিলেটে প্রায় ১০ হাজার অটোরিকশার মধ্যে অধিকাংশতেই ওই দুই প্রার্থীর পোস্টার রয়েছে। এসব অনিয়ম উপেক্ষা করে কেবল আমার আইনসম্মত বিলবোর্ডগুলো অপসারণ করা হয়, যা স্পষ্টভাবে পক্ষপাতমূলক আচরণের ইঙ্গিত দেয়।”

সংবাদ সম্মেলনে নগরের টিলাগড় পয়েন্টে কাস্তে প্রতীকের একটি বিলবোর্ড অপসারণের কথা তুলে ধরেন সুমন। তার দাবি, বিলবোর্ড খুলে নেওয়ার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই একই স্থানে, একই কাঠামো ও একই সাইজে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর একটি বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সিপিবি প্রার্থী সুমন বলেন, শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা তৈরি হওয়ায় একটি পক্ষ ভীত হয়ে তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।

এতে নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কাস্তে প্রতীকের এ প্রার্থী।