Published : 10 Jun 2026, 12:46 AM
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে উগ্র ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতায় মদদ দেওয়া এবং অর্থায়নে জড়িত ইসরায়েলি নেটওয়ার্কগুলোর ওপর সমন্বিতভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ছয় দেশ- যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।
গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা পরিচালনাকারী ইসরায়েলি নেটওয়ার্কগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়। তাদের সঙ্গে একই পথে হেঁটে মঙ্গলবার বাকি চারটি দেশও যৌথভাবে নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপ নিয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াল।
পশ্চিম তীরে সম্প্রতি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ এল।
কূটনীতিকরা বলছেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা নস্যাৎ করাই এই সহিংসতার উদ্দেশ্য। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েলের দখলে নেওয়া লাখো ফিলিস্তিনির এই ভূমিতে শত-সহস্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপন করেছে।
জাতিসংঘসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি ইহুদি নাগরিকদের এই বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করে। তবে ইসরায়েল এই ভূমির সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সংযোগের দাবি তুলে তা অস্বীকার করে আসছে।
পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের নীতি নেওয়ায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ইসরায়েলি নেটওয়ার্কগুলোর ওপর ৬ দেশের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার ওই পদক্ষেপে।
মঙ্গলবার চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ভয়াবহ সহিংসতা চালানো উগ্রপন্থি ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের (সেটেলার) জবাবদিহির আওতায় আনতেই এই পদক্ষেপ।”
পশ্চিম তীরে সহিংসতা বন্ধের ব্যবস্থা নিয়ে অর্থবহ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য তারা ইসরায়েল সরকারকে আহ্বান জানান বিবৃতিতে।
তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিজেদের দেশে ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এর মাধ্যমে তারা ইহুদিবিদ্বেষ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
মঙ্গলবারের এই নিষেধাজ্ঞায় একেক দেশ ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল ব্যারো জানান, তারা ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, বসতি স্থাপনকারী সংগঠনের চার নেতা এবং ২১ জন সহিংস ইসরায়েলি নাগরিকের ফ্রান্সে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন।
যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তাদের নিষেধাজ্ঞা পশ্চিম তীরে উগ্রপন্থি ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোর অর্থপ্রবাহ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি নির্মাণ সংস্থাও রয়েছে, যার সম্পদ ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
কানাডাও অন্য একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও তার মালিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে আরও কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে।
ওদিকে, ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের রোডম্যাপ বা রূপরেখা তৈরি নিয়ে আলোচনা করতে আগামী ১২ জুন প্যারিসে একটি বৈঠক আয়োজন করেছে ফ্রান্স। সেখানে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং প্রায় এক ডজন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নেবেন।