Published : 07 Jun 2026, 11:35 AM
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় কংস নদীতে বেইলি সেতু ধসে পড়ায় তারাকান্দাসহ জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে উপজেলাটি।
রোববার ভোর ৪টার দিকে গোয়াতলা বাজার এলাকায় সেতুটিতে বালুবোঝাই ট্রাক ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি ধসে পড়ে বলে জানিয়েছেন ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসাইন।
এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে তারাকান্দা-ধোবাউড়া প্রধান সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই পাড়ের হাজার হাজার মানুষ, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
কংশ নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি ধোবাউড়া উপজেলার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা ও ময়মনসিংহ সদরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, পিকআপ, ছোট যানবাহন এবং অসংখ্য পথচারী এই সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করেন।
স্থানীয়রা জানান, পুরানো এই সেতুটির বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়লেও প্রয়োজনীয় সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। শেষ পর্যন্ত এটি ধসে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, ব্রিজটির বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ফাটল ও দুর্বলতা দেখা দিয়েছিল। বিষয়টি জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে আজ (রোববার) পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

আরেক বাসিন্দা হাবিবুল্লাহ বলেন, ব্রিজটি ধসে যাওয়ার পর তা ট্রাকসহ নদীর শুকনো অংশে পড়ায় অনেকে ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে ব্রিজ দিয়ে নদী পার হচ্ছেন। তবে কোনো গাড়ি চলাচলের সুযোগ না থাকায় জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও মালামাল পরিবহনে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “দ্রুত একটি বিকল্প সেতু অথবা অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা করা জরুরি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
প্রায় ১০ বছর আগেই ব্রিজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল জানিয়ে ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। ব্রিজটি মেরামত অথবা বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।”