Published : 12 Apr 2026, 04:31 PM
বিজু উপলক্ষে পদ্মা নদীতে ফুল ভাসিয়ে মঙ্গল ও শান্তি কামনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা। তবে এদিন ছুটি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
নতুন বছরকে বরণ করে নিতে রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে পদ্মায় ফুল দিয়ে কর্মসূচি শেষ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী শামীন ত্রিপুরা বলেন, “আগের বছরগুলোতে যেভাবেই হোক বৈসুতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। তাই নিজের এলাকা ও পরিবারের বাইরে উৎসব কাটানোর অনুভূতি আগে বুঝিনি।
“ছুটি না থাকায় এ বছর তা ভিন্নভাবে অনুভব করছি। ক্যাম্পাসে সিনিয়র-জুনিয়র সবাই চেষ্টা করছে উৎসবের আমেজ তৈরি করতে। কিন্তু পরিবার ছাড়া কোনও আয়োজনই পূর্ণতা পায় না। এক ধরনের অপূর্ণতা থেকেই যায়।”
বিজুতে ছুটি না থাকা এবং বিভিন্ন বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষার্থী।

হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী বিভা চাকমা বলেন, “পহেলা বৈশাখের আগে আমাদের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর প্রথম দুই বছর ঈদের ছুটির কারণে বাসায় যেতে পেরেছিলাম। কিন্তু এবার সে সুযোগ হয়নি।”
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার স্মারকলিপি দেওয়া হলেও শুধু আশ্বাসই পাওয়া গেছে। ফুল বিজুর দিন ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান থাকলেও পরীক্ষার কারণে সেখানে থাকতে পারিনি।”
বিজু উৎসবে অংশ নিতে না পেরে আক্ষেপ করে বিভা বলেন, “মা ফোন করে বলছে, বাসা খালি খালি লাগছে। পরীক্ষার কারণে এখানে থেকেও ঠিকমতো উদযাপন করতে পারিনি। মনে হয় এ রাষ্ট্রে আমাদের উৎসবের জন্য কোনো ছুটি নেই!”
পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবার’ এর সভাপতি স্মৃতিময় চাকমা বলেন, “দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা আদিবাসী শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের উৎসবের সময়ে ছুটির দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সেই দাবি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।”

তিনি বলেন, এ সময় অনেক বিভাগে পরীক্ষা থাকে। ফলে ক্যাম্পাসে সীমিত পরিসরে যে আয়োজন করা হয়, তাতেও অনেকেই অংশ নিতে পারেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যালেন্ডারে পহেলা বৈশাখের ছুটির সঙ্গে চৈত্র সংক্রান্তি ও তার আগের দিন অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান স্মৃতিময় চাকমা।