Published : 12 Feb 2026, 05:51 PM
গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও সদর একাংশ) আসনে ভোট দেওয়ার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক নারী ভোটার। পরে কক্ষে ঢুকে জানতে পারেন তার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মহিলা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ।
এ ঘটনার পর ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ তিন জনকে প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন।
তারা হলেন- সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হারেছা খাতুন এবং পোলিং কর্মকর্তা মাসুম খান ও সালমা আক্তার। হারেছা খাতুন গিলাশ্বর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক, সালমা আক্তার দক্ষিণ ভাংনাহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং মাসুম খানের কর্মক্ষেত্রের নাম জানা যায়নি।
ইউএনও সজীব আহমেদ বলেন, ওই কেন্দ্রের ভোটার লাকী বেগম সকালে ভোট দিতে লাইনে দাঁড়ান। প্রায় এক ঘণ্টা পর তিনি ভোট কক্ষে প্রবেশ করেন। কিন্তু গিয়ে দেখেন, তার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে।
এতে হতাশ হয়ে ফিরে যাওয়ার সময় বিষয়টি দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জানান। পরে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওই কেন্দ্রের তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়।
শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মহিলা ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সেলিম হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটা কীভাবে ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হবে।”
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সজীব আহমেদ বলেন, একজন ভোটার অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ তিন জনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পরে নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী, ওই নারী ভোটারের ভোট ‘টেন্ডার্ড ভোট’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ভোটার যদি দেখেন তার ভোট অন্য কেউ দিয়ে গেছে, তখন তিনি যে ভোট দেননি সেটি নিশ্চিত করতে পারলে তাকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে সেই ভোটটিকে বলে টেন্ডার্ড ভোট।
তবে টেন্ডার্ড ভোটের মাধ্যমে ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলেও সেটিকে ব্যালট বাক্সে রাখা হয় না, কিংবা গণনাও করা হয় না। যে কারণে এই ভোটটি মূলত 'সান্ত্বনামূলক'।