Published : 11 Jul 2026, 10:41 PM
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের সময় শরীরে গুলি লাগে রাশিদা আক্তারের। সেই গুলি নিয়ে তিনি ৫৫ বছর অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করেছেন।
কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় গুলি বের করা বা চিকিৎসা করাতে পারেননি রাশিদার পরিবার। তার চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালী।
রাশিদা আক্তার উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের গোপালাশ্রম (চক্রকান্দি) গ্রামের মৃত মারফত আলীর স্ত্রী। তার ডান পিঠের উপরের অংশে গুলি রয়েছে।
শনিবার কেন্দুয়া পৌর শহরের কলেজ রোডের বাসায় সংসদ সদস্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাশিদা আক্তার। তখন বয়সের ভারে ন্যূব্জ রাশিদা আক্তারের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন সংসদ সদস্য হিলালী।
এ সময় তিনি রাশিদার হাতে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে ১০ হাজার টাকার একটি চেক তুলে দেন। এ সময় রাশিদার ছেলে কাঞ্চন মিয়া ছাড়াও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের একজন যুদ্ধাহত নারী হিসেবে রাশিদা আক্তারের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব রয়েছে। অনেক আগেই তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা হওয়া উচিত ছিল।
“বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় জটিল চিকিৎসা কতটা সম্ভব, তা চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা হবে। পাশাপাশি তার চিকিৎসার জন্য আরও কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
আর্থিক সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত রাশিদা আক্তার সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
রাশিদা আক্তারের ছেলে কাঞ্চন মিয়া বলেন, “আমার মাকে নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশনে অনেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কেউ সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেননি। সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী এগিয়ে এসেছেন। তার প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমরা গরিব মানুষ। টাকা-পয়সার অভাবে মায়ের ঠিকমত চিকিৎসা করাতে পারিনি।”
এদিন রাশিদা আক্তার ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গুলি লাগার ঘটনারও বর্ণনা দেন।
তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু হলে জীবন বাঁচাতে শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে শ্রাবণ মাসের কোনো একদিন ঘর থেকে বের হন তিনি। সেদিন পাশের গ্রাম চিথোলিয়ার পাল বাড়িতে আগুন দেয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও স্থানীয় রাজাকাররা। পরে তারা গোপালাশ্রম গ্রামের ডাক্তার বাড়িতে (ডা. ধীরেন্দ্রনাথ সরকারের বাড়িতে) আগুন দেয়। সেদিন বৃষ্টির মত গুলি ছুড়ে হানাদার বাহিনী।
রাশিদা আক্তার বলেন, বাচ্চাকে কোলে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছিলেন তিনি। এ সময় বাড়ির উঠোনে হঠাৎ করে তার ডান পিঠের উপরের অংশে গুলি লাগে। প্রচুর রক্ত ঝরছিল। তখন জবান হোসেনের ছেলে রশিদ গ্রামের রাশিদা আক্তারসহ কয়েকজন নারীকে নিয়ে নৌকায় করে মনাং গ্রামের দিকে রওনা হন।
“তখনও পাকিস্তানি সৈন্যরা নদীতে তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। রশিদের মাথায় একটি গুলি লাগে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে নৌকাতেই মারা যান। আরও কয়েকজনের গায়ে গুলি লাগে। পরে মনাং গ্রামের লোকেরা এগিয়ে এসে নৌকায় থাকা সবাইকে নিরাপদে নেয়।”
সেখানে বেশ কিছু দিন ছিলেন রাশিদা। পরে স্বজনরা তাকে কৌশলে ময়মনসিংহ সদরের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান।
রাশিদা আক্তার বলেন, “গুলি লাগার জায়গাডা মাঝে মাঝে ঝিনঝিন করে ব্যাথা আসে। কোনো সময় অবশ হয়ে আসে। অসহনীয় ব্যাথা হয়। এক্কেরে অস্থির হয়ে যাই।”