Published : 08 Jul 2026, 08:18 PM
মুষলধারে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় বিপদে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক তলিয়ে যোগযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণ বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত আছে। মাঝখানে বিকালে কিছুক্ষণের জন্য বৃষ্টি ছিল না। বিভিন্ন এলাকার ছড়া ও খাল উপচে নিম্নাঞ্চলে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সবুজবাগ আবাসিক এলাকা, লালবাগ, শাহীবাগ, রূপসপুর, সন্ধানী আবাসিক এলাকা, সুরভীপাড়া, মতিগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম। প্লাবিত হয়েছেন সদর উপজেলার কোদালী ছড়া ও আশপাশের এলাকা। বেশ কিছু এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটেছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, “মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
“এ ছাড়া বুধবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আরও ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।”
জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরিবার দুপুরে রান্না করতে পারেনি। নিম্নাঞ্চলের বহু মানুষ কর্মস্থলেও যেতে পারেননি। এতে দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
শ্রীমঙ্গলের সবুজবাগ এলাকার ব্যবসায়ী চন্দন রায় বলেন, তাদের আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। দুপুরে অনেক পরিবার রান্না করতে পারেনি। পাশের একটি পরিবার তাদের বাড়ি থেকে রান্না করে নিয়েছে। সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তিনিও কর্মস্থলে যেতে পারেননি।
একই উপজেলার রূপসপুর এলাকার বাসিন্দা আরতি বালা দেবী বলেন, হঠাৎ পানি বেড়ে তাদের ঘরে ঢুকে পড়েছে। পুরো পরিবার নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছরের মত এবারও আকস্মিকভাবে পানি বেড়ে যাওয়ায় তারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি সহায়তার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “বন্যার কারণে কয়েকটি এলাকায় রাস্তাঘাট ও বাড়িঘরে পানি ওঠার খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।”