মাদারীপুরে বাস খাদে, নিহত বেড়ে ১৯
খুলনা থেকে ঢাকাগামী ইমাদ পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে পাশের খাদে পড়ে যায়।
মাদারীপুরের শিবচরে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ৩০ জন।
রোববার সকাল পৌনে ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ের শিবচরের কুতুবপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান।
তিনি বলেন, খুলনা থেকে ঢাকাগামী ইমাদ পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে যায়।
জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহতদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পথে প্রাণ হারান আরও তিন জন।
আহত নয়জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে আরও দুইজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান।
আহতদের মধ্যে সাতজন এখনও ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন: আ. হামিম (৫৫), শেখ ফয়সাল আহমেদ (৪০), বদরুদ্দোজা (৩০), পঙ্কজ কান্তি ঘোষ (৫০), ঝুমা আক্তার (৩৪), মো. এনামুল (৪০) ও বুলবুল (৫০)।
সকালে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা বাসটি গোপালগঞ্জ থেকে যাত্রী তোলে। হতাহতাদের অনেকেই গোপালগঞ্জের বাসিন্দা।
ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিসের ফরিদপুর অঞ্চলের উপসহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে দ্রুতগামী বাসটির চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি খাদে পড়ে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে বাসটির সামনে থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত অংশ পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এটিই এক্সপ্রেসওয়েতে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা।
“ধারণা করা হচ্ছে বেপরোয়া গতি ও বাসটির যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।”
জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুন বলেন, দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে একটি কমিটি করা হয়েছে, তাদের দুই দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
লাশ দাফনের জন্য নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। আর আহতদেরকে পাঁচ হাজার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
