Published : 17 Dec 2025, 08:47 PM
পাবলিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগসহ আট দফা দাবিতে পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের নিচে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা ।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোরশেদ রেহেনা পারভীন বলেন, “আজ (বুধবার) দুই পর্বের ৯৪ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মাত্র ২৯ জন। বাকিরা পরীক্ষা বর্জন করেছে।”
আড়াইহাজার উপজেলায় অবস্থিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে চার শতাধিক শিক্ষার্থী আছেন। বুধবার সকালে ২৪-২৫ সেশনের দ্বিতীয় সেমিস্টার ও দুপুরে ২২-২৩ সেশনের ষষ্ঠ সেমিস্টারের পরীক্ষা ছিল।
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘সারাদেশের কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। তার প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আট দফা দাবি চূড়ান্ত করে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে। শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি ও আলোচনা সভা করে।
কিন্তু এখন পর্যন্ত দাবি পূরণ বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস না পেয়ে তারা পরীক্ষা বর্জনের মতো কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবি হল- ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের পাবলিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে গেজেট প্রকাশ করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে, কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষক সংকট দূর করতে হবে,
এছাড়া কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষাকে ডিএই অধীন থেকে বের করে সম্পূর্ণভাবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আলাদা প্রতিষ্ঠান করতে হবে, সকল কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদটি শুধুমাত্র ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের জন্য সংরক্ষিত করতে হবে, ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ন্যূনতম দশম গ্রেডের পে-স্কেলে বেতন দিতে হবে, কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদেরকে মাঠ সংযুক্তি ভাতা প্রদান করতে হবে, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের চাকরিতে প্রবেশের পর ছয় মাসের ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী এ প্রতিবেদককে বলেন, দাবি পূরণ না হলে বৃহস্পতিবারও তারা অবস্থান কর্মসূচিতে যাবেন।
অধ্যক্ষ মোরশেদ রেহেনা পারভীন বলেন, “কারিগরি বোর্ড থেকে আমাদের পরীক্ষা বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা নেই। আমরা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে অনুরোধ জানিয়েছি। কেননা, পরীক্ষা মিস করলে ছয়টা মাস তাদের নষ্ট হবে।”