১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সিলেটে জনতার হাতে আটক আওয়ামী লীগ নেতা, পুলিশে হস্তান্তর

“প্রদীপ রায়ের বিরুদ্ধে দিরাই ও সুনামগঞ্জ সদর থানায় সাতটি মামলা রয়েছে।”

সিলেট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jul 2025, 06:14 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:21 PM

সিলেটে নগরে একাধিক মামলার আসামি এক আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে সুবিদবাজার এলাকার লন্ডনি রোডে এ ঘটনা ঘটে। 

পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জালালাবাদ থানার ওসি মো. হারুনুর রশিদ জানিয়েছেন।  

আটক প্রদীপ রায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। 

প্রত্যক্ষদর্শী লন্ডনি রোডের বাসিন্দারা বলছেন, সুনামগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা প্রদীপ রায়কে ‘বিএনপি পরিচয়ে’ কয়েকজন ব্যক্তি ‘মারধর’ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। 

যদিও প্রদীপকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছে পুলিশ। 

এদিকে প্রদীপ রায়কে আটকের একটি ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।  

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি প্রদীপকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছেন। সাদা স্যান্ডো গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরে প্রদীপকে এ সময় মেঝেতে বসে থাকতে দেখা গেছে। এ সময় সেখানে দুজন পুলিশও উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ প্রদীপকে তাদের হেফাজতে নেয়। 

সুনামগঞ্জ ও দিরাই থানার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের জারুলিয়া জলমহালের দখল নিয়ে ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন নিহত হন। ওই ঘটনায় প্রদীপ রায়কে আসামি করা হলেও পরে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাকেসহ কয়েকজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর দিরাইয়ের ভাটিপাড়া জলমহালের দখল নিয়ে আরেকটি সংঘর্ষে একজন নিহত হন। সেই মামলায়ও তার নাম ছিল আসামিদের তালিকায়।

পুলিশ বলছে, প্রদীপ রায় দীর্ঘদিন ধরে দিরাই-শাল্লায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ‘প্রভাবশালী নেতা’ হিসেবে পরিচিত। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার ভাই বিশ্বজিৎ রায়ও আওয়ামী লীগের মনোনয়নে দিরাই পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন।  

তবে প্রদীপ রায়কে মারধর করা হয়নি বলে দাবি করেছেন ওসি মো. হারুনুর রশিদ। 

তিনি বলেন, “প্রদীপ রায়ের বিরুদ্ধে দিরাই ও সুনামগঞ্জ সদর থানায় সাতটি মামলা রয়েছে। আমরা তাকে সুনামগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করেছি। সেখান থেকে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে।”