Published : 10 Mar 2026, 04:57 PM
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে নিখোঁজ কলেজ ছাত্রের মরদেহ পুকুরে কচুরিপানা দিয়ে লুকানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, আইফোন ও টাকা ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যার পর লাশ গুম করেছে চার সহপাঠী।
সোমবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পেছনের একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন।
নিহত সিয়াম মোল্যা (১৭) বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রামের ইতালী প্রবাসী লিখন মোল্যার ছেলে ও মুকসুদপুর কলেজের এইচএসসির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বছর চারেক আগে সিয়ামের মা মারা যান। তিনি ঝুটিগ্রামের নানা বাড়িতে থাকতেন।
তাকে হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে ঝুটিগ্রামের ১৬ বছর বয়সী ও বাঁশবাড়িয়া গ্রামের ১৭ বছর বয়সী দুই সহপাঠীকে আটক করা হয়েছে।
ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শনিবার চার সহপাঠী সিয়ামকে নানাবাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের লোকজন তাকে সম্ভাব্যস্থানে খুঁজে না পেয়ে পুলিশকে জানায়।
পুলিশ এ ঘটনার তদন্তে নেমে দুই সহপাঠীকে আটকের পর থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে। পরে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করে ।
তাদের দেওয়া তথ্য মতে ওসি মামুন আরও বলেন, সিয়ামের কাছে একটি আইফোন ও টাকা ছিল। মাদকের টাকা জোগাড় করতে সিয়ামের ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নিতে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে তারা চার সহপাঠী।
পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার সিয়ামকে তারা শ্বাসরোধে হত্যার পর পুকুরের কচুরিপানার নিচে মরদেহ ঢেকে রাখে। পর আইফোনটি নিজেদের দখলে নিয়ে পরে পাশ্ববর্তী বোয়ালিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা করা হবে। তবে আটক দুই জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অপর দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ মঙ্গলবার সকালে সিয়ামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন।