১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লক্ষ্মীপুরে হাত বেঁধে শ্রমিককে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

অগ্রিম টাকা নেওয়ার পর কালু কাজ না করে বাড়ি চলে যাওয়ায় তাকে ধরে এনে এভাবে পিটিয়ে ‘শাস্তি’ দেন ইসমাইল।

লক্ষ্মীপুরে হাত বেঁধে শ্রমিককে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল
ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Apr 2026, 01:58 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:23 PM

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে দোকানের আড়ার সঙ্গে বেঁধে এক ইটভাটার শ্রমিককে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের মৌলভিরহাট এলাকার স্লুইসগেট এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সেই ঘটনার একটি ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা তৈরি হয়। 

যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই ইসমাইল হোসেন ওরফে ইসমাইল মাঝি ইটভাটায় শ্রমিক সরবরাহ করেন। আর নির্যাতনের শিকার কালুর বাড়ি চর কাদিরা ইউনিয়নের চরবসু বাদামতলী বাজার সংলগ্ন এলাকায়।

অগ্রিম টাকা নেওয়ার পর কালু কাজ না করে বাড়ি চলে যাওয়ায় তাকে ধরে এনে এভাবে পিটিয়ে ‘শাস্তি’ দেন ইসমাইল। আর কাজটি তিনি এমনভাবে করেন, যাতে অন্য শ্রমিকরাও ‘শিক্ষা’ পায়।

ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৬ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, পেটাতে পেটাতে কিছু কথা বলছেন ইসমাইল এবং কালুকে দিয়ে সেগুলোর পুনরাবৃত্তি করাচ্ছেন।

কালুকে দিয়ে তিনি বলান, “ইসমাইল মাঝি কারো জন্য মামলা করে না। কারো আতাই (দিয়ে) সালিশ করে না। নিজের সালিশ নিজে করে। নিজের বিচার নিজে করে। মাপ কইরলেও নিজে করে। আর জীবনে এগিন কইরতাননো (করব না)। মাঝির যা ক্ষতিপূরণ এখন দিয়া যামু। ইসমাইল মাঝির লগে এই কাম করিস না কেউ।”

বেত্রঘাতের সঙ্গে সঙ্গে এভাবেই ইসমাইলের বলা কথাগুলোর পুনরাবৃত্তি করছিলেন কালু।

ভিডিওর শেষ ভাগে শোনা যায়, “মাঝি আগা গোড়া চেচি হালা। বাবারে ভাইরে তোরা এইমিলে ব্রিকফিল্ড থেকে না কইয়া আইছ নারে ভাই। মাঝি টাকা দেয় তোরা ঠিকমতো কাম কর ভাই। আমার মতো কেউ ভুল করিসনারে ভাই। মাঝি ঠিকমতো টিয়া (টাকা) দেয়, ঠিকমতো কাজ করবিরে ভাই। ভাই তোরা কেউ ছুটিতে আইলে বেশিদিন থাইছ না। ছুটিতে আইলে ৫-৬ দিন থাকি চলি যাবি ভাই।”

“আর জীবনে কইরবিনি এগিন,” বলেই কালুর পায়ে ও পাছায় এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন ইসমাইল। 

কালু বলতে থাকেন, “আর জীবনে করুম না। ভাই তোরাও কুনুগা জীবনে করিস না। ব্রিকফিল্ডেরতন না কই আইছ না। আইলে সুন্দর মতো চলি যাইস। আঁই আয় অন শাস্তি হাইতাছি। তোরা কেউ আঁর মতো আইছ নারে ভাই।” 

স্থানীয়রা জানান, ৮০ হাজার টাকায় চট্টগ্রামের একটি ইটভাটায় কাজ করার জন্য ইসমাইলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন কালু। তিনি টাকাও নিয়েছেন। সে অনুযায়ী তিনি চট্টগ্রামের ইটভাটার শ্রমিকের কাজে যোগ দেন।

কিন্তু কিছুদিন আগে তিনি অসুস্থতার কারণে বাড়িতে চলে আসেন। পরে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে লোকজন নিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে কালুকে ধরে আনেন ইসমাইল। মৌলভিরহাট স্লুইসগেট এলাকায় ইসমাইলের অফিসে (দোকানঘর) দুই হাত বেঁধে কালুর ওপর নির্যাতন করা হয়।

পরে কালুর পরিবর্তে তার ভাইরা কাজ করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। সাদা কাগজে মুচলেকা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জিম্মায় কালুকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কালু মিয়া বলেন, “ইসমাইল মাঝি আমাকে তার লোকজন দিয়ে ধরে নিয়ে হাত বেঁধে মারধর করেছে। পরে আমার বাড়িতে খবর দেয় এক লাখ টাকা নিয়ে আসার জন্য। মারধরের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে। মাঝি পালিয়ে গেছে।” 

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, “ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে।”