Published : 13 Apr 2026, 02:33 PM
লক্ষ্মীপুরে নিজের ‘ঘুমন্ত ছেলেসহ তিনজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে’ আহত করার পর ছাদ থেকে লাফ দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত এক ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
সোমবার সকালে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকার ‘পেশকার বাড়িতে’ এ ঘটনা ঘটে বলে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানিয়েছেন।
নিহত ৫৫ বছর বয়সী নাছির আহমদ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাসপুর গ্রামের আরশাদ আলীর ছেলে। তিনি গত সাত বছর ধরে পরিবার নিয়ে ওই এলাকায় বসবাস করছেন।
সাবেক এই পুলিশ সদস্য মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন- নিহত নাছিরের ছোট ছেলে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইমরান, একই বাড়ির মৃত গোলাম রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান স্বপন এবং ভাড়াটিয়া নাছির। তার বাবার নাম আব্দুল মান্নান।
আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা বলছেন, নাছির আহমদ ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি গত বছরের অগাস্টে চাকরি থেকে অবসরে যান। তার বড় ছেলে প্রতিবন্ধী। বড় ছেলেকে নিয়ে তার স্ত্রী কিছুদিন আগে বেড়াতে গিয়েছেন।
ঘটনার আগের রাতে ছোট ছেলে ইমরান এবং নাছির বাসায় ছিলেন। ওই সময় নাছির অসুস্থ হয়ে পড়লে ইমরান তাকে ওষুধ এনে খাইয়ে দেয়।
সকালে ঘুমন্ত অবস্থায় ইমরানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন নাছির। রক্তাক্ত অবস্থায় ইমরান বাসা থেকে বের হয়ে এলে প্রতিবেশী মিজানুর রহমান স্বপন তাকে সহায়তা করতে এগিয়ে যান। এ সময় নাছির তাকেও দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন।
এরপর ঘটনাটি দেখে নাছির নামে আরেক ব্যক্তি আহতদের উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করেন অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল নাছির।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন কাজেমী বলেন, “পরে নাছির তিল তলা ভবন থেকে লাফিয়ে আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠায়। প্রায় তিন ঘণ্টা চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।”
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অরুপ পাল বলেন, “আহত অবস্থায় চারজনকে হাসপাতাল আনা হয়েছিল। এর মধ্যে কনস্টেবল নাছির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
“আহত স্বপন ও ইমরানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আর আহত আরেকজনকে ভর্তি রাখা হয়েছে।”
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজেমী বলছেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে সাবেক ওই পুলিশ সদস্য মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”