এমপি আনার হত্যা: সেলেস্টিকে নিয়ে যা বললেন আত্মীয়
সেলেস্টিদের দোতলা ভবন বিশিষ্ট বাড়ির পুরোটাই ফাঁকা পড়ে রয়েছে।
ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে সেলেস্টি রহমানকে।
এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই শনিবার টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় সেলেস্টি রহমানের গ্রামের বাড়িতে যান সংবাদকর্মীরা।
সেখানে পরিবারের কেউ না থাকলেও আত্মীয়-স্বজনরা জানিয়েছেন, সেলেস্টির জন্ম উপজেলার পাইশানা গ্রামে হলেও তার বেড়ে উঠা রাজধানীতেই।
ফলে সেলেস্টি বা তার পরিবার সম্পর্কে প্রতিবেশীরা বিশেষ কিছু জানেন না। সংসদ সদস্য আনার হত্যার পর সংবাদপত্রের মাধ্যমে তারা সেলেস্টি রহমানের গ্রেপ্তার সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।
তিনবারের সংসদ সদস্য ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনার ১১ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। প্রথমে কলকাতার বরাহনগরে তার বন্ধু স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন।
এরপর স্থানীয় থানায় জিডি করেন গোপাল বিশ্বাস। তদন্ত শুরু হয় দুই দেশে। বুধবার সকালে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর আসে, নিউ টাউনের এক বাড়িতে খুন হয়েছেন এমপি আনার।
এ ঘটনায় আমানুল্লা সাঈদ ওরফে শিমুল ভুঁইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভুঁইয়া (৫৬), তানভীর ভুঁইয়া (৩০) ও সেলেস্টি রহমানকে (২২) ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
পাইশানা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, গ্রামের আরিফুর রহমানের মেয়ে সেলেস্টি। দুই বোনের মধ্যে সেলেস্টি বড়। টাঙ্গাইলের গ্রামের বাড়িতে তারা খুব একটা থাকেননি।
সেলেস্টিদের দোতলা ভবন বিশিষ্ট বাড়ির পুরোটাই ফাঁকা পড়ে রয়েছে। শুধু তাই নয়, পাশের টিনের ঘরেও তালা ঝুলছে। কক্ষগুলোতে কোনো আসবাবপত্র নেই। দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে কেউ না থাকায় আর্বজনা পড়ে রয়েছে ঘরে ও বাইরে।
পাশের বাড়ির সেলেস্টির চাচাতো দাদা বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “সেলেস্টি বাবার প্রথম ঘরের সন্তান। ঢাকায় আরিফুর জুট ব্যবসা করেন। ছোটবেলা থেকেই তারা ঢাকার উত্তরায় বসবাস করে। মাঝে মধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসলেও দুই-একদিন থেকে চলে যেত।
“সেলেস্টির চলাফেরা উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির। তার পরিবারের কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না।”
সেলিম মিয়া জানান, ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর তিনি জানতে পারেন।
“এতে আমরাও বিব্রতকর অবস্থায় আছি। আমরাও তার বিচার চাই।”
ধুবুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আতিকুর রহমান উজ্জ্বল বলেন, “সেলেস্টি রহমান সম্পর্কে আমার তেমনটা জানা নেই। শুনেছি একজন সংসদ সদস্য হত্যার ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি অপরাধী প্রমাণ হলে আইনানুযায়ী তার শাস্তি হবে।”
নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকেই সেলেস্টির পরিবার ঢাকায় বসবাস করে। গ্রামের বাড়িতে তারা কেউ থাকেন না। তার বিষয়ে আমাকে কেউ তথ্য দিতে পারেনি।”
