১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

শেরপুরের জগৎপুর গণহত্যার স্মৃতিফলক বানাবে পুলিশ

আগামী ৩০ এপ্রিল পুলিশের পক্ষ থেকে জগৎপুর গণহত্যা দিবস পালিত হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।

শেরপুরের জগৎপুর গণহত্যার স্মৃতিফলক বানাবে পুলিশ

শেরপুর ঝিনাইগাতী উপজেলায় জগৎপুর গণহত্যার স্মৃতিফলক বানানোর ঘোষণা দেন পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান। 

শেরপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Apr 2023, 09:20 PM

Updated : 12 Apr 2023, 09:20 PM

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় স্বাধীনতার ৫২ বছর পর জেলা পুলিশের উদ্যোগে তৈরি করা হবে জগৎপুর গণহত্যার স্মৃতিফলক।

মঙ্গলবার দুপুরে জগৎপুর গ্রামে গণহত্যার স্মৃতিফলক নির্মাণের ঘোষণা দেন পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান। সেই সঙ্গে আগামী ৩০ এপ্রিল পুলিশের পক্ষ থেকে জগৎপুর গণহত্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

এর আগে জেলা পুলিশের শীর্ষ এ কর্মকর্তা জগৎপুর গ্রাম ঘুরে হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ও শহীদ স্বজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় সেদিনের গণহত্যার স্মৃতি তুলে ধরে আপ্লুত হয়ে পড়েন তারা। 

Image

শেরপুর ঝিনাইগাতী উপজেলায় জগৎপুরের গণহত্যার স্থান পরিদর্শন করছেন পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান। 

পুলিশ সুপার বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা জগৎপুরের মত সারাদেশে অসংখ্য স্থানে গণহত্যা সংগঠিত করে। এসব গণহত্যার স্থান ও ইতিহাস আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।

“তা না হলে মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ ও স্বজন হারানোর গল্প একদিন হারিয়ে যাবে। তাই ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে শহীদ স্মৃতিফলক করা হচ্ছে।”

প্রত্যক্ষদর্শী সুভাষ চন্দ্র দে বলেন, “ওইদিন শুক্রবার ছিল। সকালে বৃহত্তর ময়মনসিংহের আলবদর বাহিনী ও স্থানীয় রাজাকাররা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে জগৎপুরে হানা দেয়। প্রায় তিন ঘণ্টার পৈশাচিক গণহত্যায় শহীদ হন প্রায় ১৫০ জন মানুষ। এর মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ছিল প্রায় ১০০ জন।”

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৩০ এপ্রিল শেরপুরের জগৎপুরে নৃশংস গণহত্যা চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আলবদর বাহিনী। সেদিন উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম জগৎপুরের মাটি নিরীহ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয়।