প্রায় সাত একর আয়তনের মাঠটিতে ২৬৫টি কাতার রয়েছে।
Published : 29 Mar 2025, 06:13 PM
কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠে ঈদ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে মাঠটি পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের ডিসি ফৌজিয়া খান।
তিনি বলেন, এ ঈদ জামাত পরিচালনা করবেন বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল খায়ের মো. সাইফুল্লাহ।
বিকল্প ইমাম হিসেবে থাকবেন হয়বতনগর এইউ আলিয়া মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা যোবায়ের ইবনে আব্দুল হাই।
সুষ্ঠুভাবে জামাত অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে ডিসি বলেন, “জামাত নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। চার স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মোতায়েন থাকবে ৫ প্লাটুন বিজিবি।”
১৮২৮ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত জামাতের হিসাবে এবার হবে ঈদুল ফিতরের ১৯৮তম জামাত।
এ মাঠে একসঙ্গে তিন লাখের বেশি মানুষ নামাজ আদায় করতে পারেন।
এরই মধ্যে মাঠে নামাজের কাতারে দাঁড়ানোর জন্য দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়ালে রং করার কাজ শেষ হয়েছে। সংস্কার করা হয়েছে ওজুখানা ও শৌচাগার।
তাছাড়া নামাজ আদায় করতে আসা মানুষের জন্য সুপেয় পানি, মেডিকেল টিম, দূর-দূরান্ত থেকে আগতদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাসহ নানা আয়োজন রয়েছে।
প্রস্তুত রাখা হয়েছে বহুসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক।
ডিসি বলেন, দূর-দূরান্তের মানুষের যাতায়াতের জন্য শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থাও করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
ট্রেন দুটি ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে আসা-যাওয়া করবে।
যার একটি ঈদের দিন সকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে ময়মনসিংহ থেকে ও অন্যটি সকাল ৬টায় ভৈরব থেকে ছেড়ে আসবে। ঈদের জামাত শেষে দুপুর ১২টায় পুনারায় যাত্রী নিয়ে ফিরে যাবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদেশ ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের জন্য আবাসিক হোটেলসহ তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জামাতের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো দেখতে ডিসি, এসপি ও র্যাবসহ সংশ্লিষ্টরা একাধিকবার পরিদর্শন করেছেন ঈদগাহ মাঠ।
জেলার এসপি মোহাম্মদ মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হবে পুরো ঈদগাহ মাঠ ও আশপাশ।
আইনশৃংখলা রক্ষায় পুলিশের সাথে র্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও আনসার দায়িত্ব পালন করবেন। ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেল টিমও প্রস্তুত থাকবে।
তিনি বলেন, এবার ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা ও ড্রোনসহ চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
কুইক রেসপনস টিম তৈরি থাকবে। এ ছাড়া আলাদাভাবে বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন।
জামাতে আগতরা শুধু জায়নামাজ ও মোবাইল ফোন ছাড়া অন্য কিছু বহন করতে পারবেন না।
ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নাইমুল ইসলাম বলেন, তাদের রিজার্ভ ফোর্সও দায়িত্ব পালন করবে।
প্রবীণ সাংবাদিক, লেখক ও কিশোরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মু আ লতিফ বলেন, মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়বত খান বাহাদুর কিশোরগঞ্জের জমিদারি প্রতিষ্ঠার পর ১৮২৮ সালে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় সাত একর জমির উপর এ ঈদগাহ মাঠ প্রতিষ্ঠা করেন।
সে বছর অনুষ্ঠিত প্রথম জামাতে সোয়া লাখ মানুষ নামাজ আদায় করেন বলে মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখি মাঠ’।
সেখান থেকে উচ্চারণের বিবর্তনে নাম ধারণ করেছে আজকের শোলাকিয়া। প্রায় সাত একর আয়তনের মাঠটিতে ২৬৫টি কাতার রয়েছে।
আরো পড়ুন: