Published : 15 Apr 2026, 01:44 PM
বরিশাল নগরীতে একটি বাসায় ‘গ্যাস লিক থেকে’ বিস্ফোরণে এক ব্যক্তি ও তার ছেলে দগ্ধ হয়েছেন।
বুধবার ভোররাতে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দরগা বাড়ি মসজিদের পাশের ‘তালুকদার ভিলা’ নামের তিনতলা ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে বলে বরিশাল সদর ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার রবিউল আল আমিন জানিয়েছেন।
দগ্ধদের মধ্যে ৬০ বছর বয়সী মানিক চন্দ্র শীলকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তার ছেলে মৃদুল চন্দ্র শীলকে ভর্তি করা হয়েছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
মৃদুলের বরাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা রবিউল বলেন, “মঙ্গলবার রাতে বাবা ও ছেলে বাসায় ছিল। রাতে তারা একটি নতুন গ্যাস সিলিন্ডার এনে চুলার সঙ্গে সংযোগ দেন। সংযোগ দেওয়ার পরপরই একটি শব্দ হয়।

“তখন মানিক চন্দ্র শীল সংযোগটি ভালোভাবে আবারও সিলিন্ডারের সঙ্গে আটকে দেন। তবে এরপরও গ্যাস লিকেজ থেকে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সিলিন্ডার থেকে ধীরে ধীরে গ্যাস পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।”
তিনি বলেন, “সকাল ৬টার দিকে মানিক রান্নার জন্য চুলা জ্বালাতে গেলে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘরের দরজা-জানালা উড়ে যায় এবং আগুনে দগ্ধ হন বাবা ও ছেলে।
“স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।”

বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, “মানিক চন্দ্র শীলের শরীরের ৭০ ভাগ পুড়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
“আর ছেলের শরীরে ৫ ভাগের মতো পুড়েছে। তাকে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
বরিশাল মহানগর পুলিশের কোতয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সন্দেহজনক কিছু পাননি।

“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস লিকেজের কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে। তবুও তদন্ত করা হচ্ছে। নাশকতার কোনো বিষয় পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা রবিউল আল আমিন বলেন, “বিস্ফোরণে ভবনের নিচতলার তিনটি কক্ষের দরজা, জানালা ও থাইগ্লাসসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ভবনের দ্বিতীয় তলা ও পাশের আরেকটি ভবনেরও ক্ষতি হয়েছে।”