Published : 27 Feb 2026, 02:28 PM
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় অটোরিকশা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধের ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) জামিলুল হক জানান, ভোরে পুলিশ বাদী হয়ে এ দুটি পৃথক মামলা দায়ের করে। এ মামলায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রায়পুরের সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দর আলী বেপারী বাড়ির শাহ আলমের অটোরিকশা চুরিকে কেন্দ্র করে ওই সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে চার পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়।
অটোরিকশার মালিক মামলা করতে অনিচ্ছুক হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে চুরির মামলা করেছে বলে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) জামিলুল হক জানিয়েছেন।
তিনি বলছেন, “রিকশা চুরির ঘটনায় মালিককে আমরা মামলা করতে বলেছি। কিন্তু তারা মামলাতে অনিচ্ছুক। এতে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।
“এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা ও কাজে বাধা এবং সড়ক অবরোধের ঘটনায় পৃথক মামলা হয়েছে।”
ঘটনার বর্ণনায় পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ির শাহ আলম তার অটোরিকশা রাস্তার ওপর রেখে ইফতার করতে যান। তখন তার অটোরিকশাটি চুরি হয়ে যায়। পরে তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে চারজন সন্দেহভাজন চোরকে আটক করেন।
অটোরিকশাটি উদ্ধার করা গেলেও ততক্ষণে চোরেরা ব্যাটারিগুলো বিক্রি করে দেয়। এতে আটকদের বাড়িতে নিয়ে ব্যাটারি ফেরত দেওয়ার জন্য মারধর করা হয়।
রাতে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এ এই ঘটনার খবর পেয়ে পেয়ে পুলিশ গিয়ে আটক চার ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যাটারি না পাওয়া পর্যন্ত তাদেরকে ছাড়বে না বলে জানায় এলাকাবাসী। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশের সঙ্গে হামলা-মারামারির ঘটনা ঘটে।
এতে রায়পুর থানা পুলিশের মোতালেব, শওকত, মঞ্জুর ও জাহিদসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। এ সময় উত্তেজিত এলাকাবাসী লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর সকের রায়পুরের চৈতাইল্যা দিঘির পাড় এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ও অগ্নিসংযোগ করে চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে।
পরে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে স্থানীয়রা অবরোধ তুলে দেয়। এরপর অটোরিকশা চুরির অভিযেগে সন্দেহভাজন চারজনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিলুল হক বলছেন, চুরির ঘটনায় আটক ওই চারজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় আরও একজনকে আটক করা হয়েছিল; তাকেও পুলিশের ওপর হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তবে দুই মামলায় মোট কতজনকে আসামি করা হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাননি এ পুলিশ কর্মকর্তা।