Published : 24 Nov 2025, 05:18 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভালো লোককে নির্বাচিত করলে ভালো প্রশাসক আসবেন বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন।
তিনি বলেন, “সামনে নির্বাচন। নির্বাচনে যারা সংসদে যাবেন, আমরা যাদেরকে নির্বাচিত করব, তাদেরকে দেখে শুনে করব। আমরা খারাপ লোক নির্বাচিত করলে, খারাপই প্রত্যাশা আমাদের।
“তাই আমরা ভালো লোক নির্বাচিত করব। তাহলে ভালো ভালো প্রশাসক আসবে, আর নাহলে খারাপ লোক ঘুষখোর নিয়ে আসবেন।”
সোমবার হবিগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমিতে দুদকের জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের আয়োজনে গণশুনানি শেষে বেলা ৩টায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
দুদুক চেয়ারম্যান বলেন, “দুর্নীতি দমন কমিশন বড় কোনো অফিস না এটা ছোট অফিস। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তার মধ্যে আমরা যদি সময়মতো জিনিসগুলো পেয়ে যাই, যদি তদন্ত করার সময় পাই, সে ক্ষেত্রে আমরা জানিয়ে দিতে পারব যে এটা সঠিক না।”
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সম্পত্তি ‘গোঁজামিল’ দিয়ে ২০০৮ সালে নির্বাচন করেছেন দাবি করে আব্দুল মোমেন বলেন, “সেই সময় সেটা যদি না হত, তাহলে তিনি নির্বাচিত হতেন না, তার নমিনেশন বাতিল হয়।
“আর তার নমিনেশন বাতিল হলে, তিনি এমপি হন না, প্রধানমন্ত্রীও হতে পারতেন না। তার দলও ক্ষমতায় আসতে পারত না। তাহলে দেখেন, আমরা সেই সময় তার সম্পত্তির সঠিক হিসাব নিতে পারি নাই।”
গণশুনানিতে দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম এবং হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন।
গণশুনানি চলাকালে সহকারী মোটরযান পরিদর্শক আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে চার হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ তোলেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার হাতিরথান এলাকার ট্রাকচালক নোমান মিয়া।
তাৎক্ষণিক অভিযোগের সত্যতা পেলে আশরাফুল ইসলামকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন দুদক চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেন।
এ ছাড়া সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে নবীগঞ্জের গজনাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেয় দুদুক।
গত দুই সপ্তাহে জেলায় দুদকের স্থাপন করা দশটি বুথে প্রায় দুইশ অভিযোগ জমা পড়ে। এসবের বেশিরভাগ রেলওয়ে, হাসপাতাল, নির্বাচন, রেজিস্ট্রি, বিআরটিএ, পাসপোর্ট, শিক্ষা অফিস, গণপূর্ত অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে। এর মধ্যে অন্তত ৮৩টি অভিযোগের শুনানি করা হয়।