পটুয়াখালীতে ট্রান্সফরমার চুরির সময় হাতেনাতে আটক গণঅধিকার পরিষদের নেতা
এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পরে ওই নেতাকে দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির সময় স্থানীয়দের কাছে হাতেনাতে আটক হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের এক নেতা।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবাগী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন গলাচিপা থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ।
আটক নেতার নাম মো. মনির মীর (৪৫)। তিনি গণঅধিকার পরিষদের গোলখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি এবং সাবেক ইউপি সদস্য।
ওসি বলেন, শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা মনির মীরকে পুলিশের কাছে তুলে দেন। এ সময় তার কাছ থেকে রেঞ্জ, প্লাস, রড, কাটিং প্লাস ও মিনি রোলকাটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুতের গলাচিপা জোনাল অফিসের এজিএম মো. তোফায়েল আহমেদ মামলাটি করেন। এতে মনির মীরকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে নলুয়াবাগী গ্রামের কয়েকজন জেলে ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় একজনকে ট্রান্সফরমার চুরি করতে দেখেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে আটক করেন। পরে তাকে পূর্ব দক্ষিণ নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আটকে রেখে শুক্রবার সকালে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়।
এদিকে মনির মীরকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. শাহআলম।
তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যক্তি দলের জন্য ক্ষতিকর। তাই তাকে ইউনিয়ন কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গোলখালী ইউনিয়নে প্রায়ই ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎহীন হয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন এলাকার মানুষ।
ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বাবুল মিয়া বলেন, গত দুই মাসে ওই এলাকায় চার থেকে পাঁচটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। সম্প্রতি নতুনগ্রাম এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় ২৫টি পরিবার প্রায় এক সপ্তাহ বিদ্যুৎহীন ছিল।
গলাচিপা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম জয় প্রকাশ নন্দী বলেন, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায়ই ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে। গত দেড় বছরে ৬০ থেকে ৬৫টি ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, ঘটনা তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
