‘চুরি করে চলে যান আত্মগোপনে, ধরা পড়ার ভয়ে স্ত্রীকে দিয়ে করান অপহরণের অভিযোগ’
গ্রেপ্তারের পর তার বাড়ি থেকে চুরির মালামাল উদ্ধার করার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রামের এক দোকান থেকে চারটি ক্যামেরা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির অভিযোগে এক যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, যাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছিল বলে কয়েক দিন আগে থানায় অভিযোগ করেছিলেন তার স্ত্রী।
পুলিশ বলছে, ক্যামেরা চুরি করে ওই যুবক আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। ধরা পড়ার ভয়ে পরে তিনি স্ত্রীকে দিয়ে অপহরণের নাটক সাজান।
লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের নাওঘাটা, আওয়ার পাড়া এলাকা থেকে সোমবার রাতে মো. রিদুয়ানুল হক নামের ৩৫ বছর বয়সী ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর তার বাড়ি থেকে চুরির মালামাল উদ্ধার করার কথাও বলেছেন চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী।
গত ৯ অক্টোবর উপজেলার আমিরাবাদ বাজারের মোস্তফা সিটি মার্কেটের ‘ওয়েডিং ফটোগ্রাফি’ নামে একটি দোকান থেকে চারটি ক্যামেরা, আটটি লেন্সসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল চুরি হয়। ওই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে সিসিটিভি ভিডিওতে রিদুয়ানুলকে দেখা যায়।
এর তিন দিন পর ১২ অক্টোবর রিদুয়ানের স্ত্রী রেশমী আক্তার থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরিফুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রিদুয়ানুল ফটোগ্রাফির সাথে সম্পৃক্ত। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি দোকানটিতে তার যাতায়াত ছিল।
“গত ৯ অক্টোবর দোকান মালিক বাবলু পাল রাত সোয়া ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে বের হন। রাত সোয়া ১২টার দিকে পুনরায় দোকান আসার পর দেখতে পান, দোকানের দরজা খোলা এবং বিভিন্ন ধরনের চারটি ক্যামেরা, আটটি লেন্সসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল বলেন, “আমরা তদন্ত শুরু করে দোকান ও মার্কেটের বিভিন্ন সিসিটিভি ভিডিওতে রিদুয়ানুলকে দেখতে পাই এবং চুরির সাথে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি সন্দেহে নিয়ে আসি। এরপরই দেখা যায় তার স্ত্রী অপহরণের দাবি করতে এলেন।”
পুলিশ বলছে, ঘটনার পরপর রিদুয়ানুলের মোবাইল ফোনটি বন্ধ ছিল। তিনি বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।
সোমবার রাতে তাকে পদুয়া ইউনিয়নের নাওঘাটা, আওয়ার পাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন তিনি চুরির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা ‘স্বীকার করেন’ এবং জানান, চুরি করা মালামাল তার বাড়িতে রাখা আছে। এরপর তার বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে পুলিশ।
চুরির ঘটনা আড়াল করে নিজেকে রক্ষা করতে অপহরণে নাটক সাজানো হয়েছিল মন্তব্য করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ বলেন, “আমাদের ধারণা চুরির বিষয়টি রিদুয়ানুলের স্ত্রীও জানতেন। স্বামীকে বাঁচাতে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ নাটক সাজিয়ে মামলা করেছেন।”
