শেরপুরে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজের ২৬ ঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার
সৈয়দ সাদমান জয় ঢাকার স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
শেরপুর সদর উপজেলায় নিখোঁজের প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর নদী থেকে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
রোববার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের ভাটারাঘাট এলাকার মৃগী নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার জানান।
নিহত সৈয়দ সাদমান জয় (২২) ওহেদুন্নী ওরফে মাখন মিয়া এবং শাহনাজ পারভীন দম্পতির সন্তান। তিনি ঢাকার স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
শাহনাজ পারভীন সদর উপজেলার খাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তারা শেরপুর শহরের মধ্যশেরী এলাকায় ভাড়া থাকতেন। জয় শিশু সাংবাদিকতায় বিশ্বের প্রথম বাংলা সাইট হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
পরিবার, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, শনিবার বিকালে জয় তার এক বন্ধুকে নিয়ে সদর উপজেলার ভাটারাঘাট এলাকায় মৃগী নদীর তীরে যান। সেখানে তারা বসে থাকা অবস্থায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় জয়ের বন্ধুকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, অভিযানের সময় জয় ভয় পেয়ে দৌড় দেন এবং মৃগী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নদীর ওপারে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। যদিও তিনি সাঁতার জানতেন।
বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা নদীসহ আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়। তখন পুলিশ জামালপুর ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানায়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল রোববার বিকাল থেকে মৃগী নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নদী থেকে জয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার বলেন, “শনিবার মৃগী নদীর ধারে আমাদের কোনো অভিযান হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা আমাদের কাছে এসে সহযোগিতা চাইলে আমরা প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করি।
“পরে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সহযোগিতায় ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “শনিবার আমাদের উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ওই অভিযানে একজনকে মাদকসহ আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
“তবে, অভিযানের ভয়ে কেউ নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যাকে ধরতে গিয়েছিলাম, তাকে ধরে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। কারও পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না।”
