Published : 19 Mar 2026, 02:58 PM
ভোলার লালমোহন উপজেলার মেঘনা নদীর একটি ঘাটে যাত্রীবাহী লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লেগে অভিযানে থাকা মৎস্য বিভাগের একটি স্পিডবোট ডুবে গেছে।
লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে ‘মঙ্গল সিকদার’ লঞ্চঘাটে এ দুর্ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য নদীতে নিখোঁজ রয়েছেন এবং আহত হয়েছেন পাঁচজন।
নিখোঁজ মো. ফখরুল লালমোহন থানার আওতাধীন সিকদার পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কনস্টেবল। তার বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানায়।
বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নদীতে নিখোঁজ পুলিশ কনস্টেবল ফখরুলের কোনো খোঁজ মেলেনি।
আহতরা হলেন- লালমোহন উপজেলা মৎস্য বিভাগের অফিস সহকারী আব্বাছ উদ্দিন, ক্ষেত্র সহকারী মনোয়ার হোসেন, সাইফুল ইসলাম সোহাগ এবং আরও তিন পুলিশ কনস্টেবল।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকার ঘোষিত ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে দুই মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা বর্তমানে চলমান রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মঙ্গল সিকদার ঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছিল পুলিশ সদস্যরা।
এ সময় হঠাৎ অভিযানকারী দলের স্পিডবোটটি বিকল হয়ে নদীতে ভাসতে থাকে। অন্যদিকে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে ঢাকা থেকে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এমভি কর্ণফুলী-১২ লঞ্চটি মঙ্গল সিকদার ঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল।
এক পর্যায়ে স্পিডবোটটি স্রোতের তোড়ে ভাসতে ভাসতে লঞ্চটির পেছনের প্রপেলারের কাছে চলে আসে। বোটটি লঞ্চের তলায় ঢুকে যাওয়ার মুহূর্তে বোটে থাকা পুলিশ সদস্য ও মৎস্য বিভাগের লোকজন একপাশে জড়ো হয়ে সেটিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে লঞ্চের প্রপেলারের পানির ঘূর্ণিতে স্পিডবোটটি উল্টে গিয়ে ডুবে যায়।
এ সময় বোটে থাকা পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের অন্যান্য লোকজন সাতরে তীরে উঠলেও নিখোঁজ হন ফখরুল।
ওসি অলিউল বলেন, “এটি দুর্ঘটনা। নিখোঁজ পুলিশ কনস্টেবল ফখরুলের সন্ধানে নদীতে উদ্ধার অভিযান চলছে।
“আমরা মূলত এখন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। এ ঘটনায় পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”