Published : 02 Apr 2026, 12:29 PM
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধ রাখতে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাবকারী ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশের দাবি জানিয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে এক ছাত্রদল নেতা।
বুধবার বিকালে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হৃদয় হাসানের পক্ষে জেলা বারের আইনজীবী আব্দুল মজিদ নোটিশটি পাঠান।
তিনি বলেন, “বিকালেই লিগ্যাল নোটিশটি এমপি সাহেব বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে- আগামী সাত দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের পরিচয় প্রকাশ অথবা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। যদি তা না করেন, তাহলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
লিগ্যাল নোটিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া শহরে একটি ইফতার মাহফিলে বক্তব্যকালে জামায়াত নেতা ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, “প্রায় সব মিলিয়ে শুধু মেডিকেল কলেজ বন্ধের জন্য ৫০ কোটি টাকার ওপরে অফার হয়েছে এই তিন দিনে। তা-ও কেউ জানবে না, শুধু আল্লাহ বাদে। আমি বলেছি, ৫০ কোটি কেন, ১০০ কোটি, পুরা কুষ্টিয়া লিখে দিলেও আমি আমার জায়গা থেকে একচুল নড়ব না।”
মুফতি আমির হামজা বলেন, ‘এই পাঁচ বছর যদি দায়িত্বে থাকি, পাঁচটা টাকা যেন না বাড়ে, সেই রকমভাবে চলতে চাই’।
এমন বক্তব্যের ভিডিও পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেসব ভিডিওর কমেন্টে শত শত দর্শক কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখতে টাকা দিতে চাওয়া ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করার অনুরোধ জানান।
ওই ঘটনার মাসাধিককাল পর বুধবার আমির হামজাকে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম পরিচয় প্রকাশ করার দাবিতে এই লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ছবিসহ আপনার বক্তব্যের অংশ ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো ইসলামী শরিয়া আইন ও রাষ্ট্রীয় আইনে ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়েই সমান অপরাধী। আপনাকে যাঁরা ঘুষ প্রদান করতে চেয়েছেন, তাঁদের নাম প্রকাশ না করে আপনি নিজেই শুধু ভালো মানুষ সাজার জন্য ৫০ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করেননি বলে প্রচার করেছেন। ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ না করা এবং তাদের আইনের হাতে তুলে না দেওয়ার অর্থ হলো আইনের দৃষ্টিতে অপরাধীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল।’
বিষয়টি জানতে ছাত্রদল নেতা হৃদয় হাসান মোবাইলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে এই লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছি। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় জনগণ উন্নত স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এর পেছনে কারা কলকাঠি নাড়ছে, সেটা আমরা জানতে চাই। প্রয়োজনে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলবো।”
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, “আমির হামজা মেডিকেল কলেজ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না করা নিয়ে বললেন, তিন দিনে ৫০ কোটি টাকার অফার পেয়েছেন। অথচ তাকে কারা টাকার অফার করেছে, তাদের নাম বলছেন না। এটা একটা ক্রিমিনাল অফেনস। তিনি জনসম্মুখে ঘুষ প্রস্তাবকারীর নাম প্রকাশ করুন।”
জামায়ত নেতা আমীর হামজা এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে মোবাইলে আলাপকালে কুষ্টিয়ার শীর্ষস্থানীয় একটি প্রাইভেট ক্লিনিকের স্বত্ত্বাধিকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “উনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি, এমপি, আইন প্রনেতা, সম্মানীয় ব্যক্তি। আর দশজন সাধারণ মানুষের কথা আর উনার কথার ওয়েট কখনও এক হবে না। উনি যখন-তখন যেখানে সেখানে এজাতীয় মনগড়া ভিত্তিহীন বেফাঁস কথা ছুঁড়ে দিয়ে ব্যাপক ভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলে দিচ্ছেন।
“আর উনার একদল সাইবার টেকনিশিয়ানরা সেগুলি ব্যবহার করে ভিউজ বিজনেস করে ডলার কামাচ্ছেন। উনার কথার লাগাম থাকা উচিত। নচেৎ রাজনীতি ছেড়ে ট্র্যাক চেঞ্জ করে ইউটিউব ব্যবসায় মনোযোগী হলে আরও বেশি টাকা রোজগার করতে পারবেন। আমরা উনার এজাতীয় কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
এ বিষয়ে কথা বলতে সংসদ সদস্য আমির হামজার মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি ধরেননি বা কল রিসিভের অনুরোধ করে বার্তা প্রেরণ করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে তার রাজনৈতিক ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত আলী মুজাহিদ বলেন, কোনো লিগ্যাল নোটিশের কপি এখনও হাতে পাননি। নোটিশ হাতে পেলে সেটা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরও পড়ুন
জ্বালানিমন্ত্রী টুকুকে 'নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী' বললেন আমির হামজা
'ওপরওয়ালা' বলতে কুষ্টিয়ায় কেউ নেই, 'ওপরওয়ালা' এখন আমি: আমির হামজা