Published : 28 Mar 2026, 01:18 PM
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা।
জামায়াতে ইসলামীর এ সাংসদ শুক্রবার সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে খুতবার আগে এ মন্তব্য করেন।
তার ওই বক্তব্যের ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, “বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক এবং ইসলামবিদ্বেষী, আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী। যদি বলেন তিনি জামায়াতে ইসলামী বা চরমোনাই পীরের বিরোধী, তা না- তিনি ইসলামবিদ্বেষী।”
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দেওয়া এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আমির হামজা বলেন, “এই দেশে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করার জন্য নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। তাহলে মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছে- আপনি বলেন। মুক্তিযোদ্ধারা এখনো বেঁচে আছেন। তাদের জিজ্ঞেস করেন, তারা ধর্মবিদ্বেষী বা ইসলামবিদ্বেষী কি না।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সকাল থেকে মেডিকেলে ছিলাম। পাঁচ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না জেনারেটর চালাতে। একটি বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানুষের জীবন এখন বিপন্ন। এ ধরনের অযোগ্য মানুষদের দায়িত্ব না দিয়ে যোগ্যদের বসানো হলে এমন হাহাকার লাগত না।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাটশ হরিপুর বড় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বকুল বিশ্বাস বলেন, “এমপি সাহেবকে কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি নিজ থেকেই জুমার নামাজে মসজিদে এসেছিলেন। সদর আসনের এমপি হিসেবে তিনি আসতেই পারেন।
“মসজিদের ইমামের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক আছে। তিনিই আমাকে জানিয়েছিলেন আমির হামজা জুমার নামাজে আসতে চান। তবে আলোচনার সময় আমি বাইরে থাকায় তিনি কী বলেছেন, তা শুনতে পারিনি।’
এদিকে মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘আমির হামজা কোথায় কী বলেন, তা তিনি নিজেই জানেন না। এই তো সেদিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু নিয়ে বললেন ৩ দিনে ৫০ লাখ টাকার অফার পেয়েছেন। অথচ তাঁকে কারা টাকার অফার করেছে, তাদের নাম খোলাসা করছেন না। এটা একটা ক্রিমিনাল অফেন্স।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দলের নেতাদের নিয়ে আমির হামজা এমন মন্তব্য করতে পারেন না। তাকে সংযত ভাষায় কথা বলার আহ্বান জানাচ্ছি।”
হামজার এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল আলম টুকু বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিলো একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার উপর ভিত্তি করে। ধর্ম বর্ন জাতি গোষ্ঠীর উর্ধ্বে উঠে দেশকে স্বাধীন করতে মুক্তিযোদ্ধারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে।
“উনার কথা যদি সত্যি হয় তাহলে কি পাকিস্তান ইসলাম বিদ্বেষী ছিল? যে কারণে মুক্তিযোদ্ধারা কেবল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে যুদ্ধ করেছিল?”
তিনি বলেন, “প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধ নির্দিষ্ট কোনো ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করতে হয়নি, এখানে সকল ধর্মের মানুষ সেদিন দেশকে মুক্ত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “আমির হামজা তো কার্যত এখন আর ইসলামী বক্তা নন, উনি রাজনৈতিক নেতাও। আমাদের দেশের অনেক রাজনৈতিক বক্তাই এ জাতীয় কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে থাকেন। ওসব কিছু আমরা এখন আর গায়ে মাখি না।”
এ বিষয়ে জানতে আমির হামজার মোবাইলে কল করা হলেও তিনি ধরেননি, হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিলেও সাড়া দেননি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।