Published : 28 Feb 2026, 03:46 PM
বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিক্ষোভরত পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার বরপা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান।
এর আগে সকালে গত মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন ওই এলাকার বি ব্রাদার্স গার্মেন্টস কোম্পানি লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা।
তারা কারখানার সামনে ব্যস্ততম ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
শিল্প পুলিশের পরিদর্শক সেলিম বাদশা বলেন, “রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাটিতে অন্তত ১ হাজার ২০০ শ্রমিক রয়েছেন। কিন্তু, গত মাসের বকেয়া রয়েছে ৭০ থেকে ৮০ জনের। বৃহস্পতিবার তাদের বকেয়া পরিশোধের কথা থাকলেও তা না পেয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মহাসড়কে নেমে আসেন।”

তবে, শ্রমিকদের অভিযোগ, বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানানোয় তাদের কয়েকদিন আগে মারধর করা হয় এবং চাকরিচ্যুত করারও হুমকি দেয় কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া, সময়মতো বেতন পরিশোধ না করায় তারা আর্থিক সংকটেও ভুগছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানাটির দুʼজন শ্রমিক বলেন, বেতনের দাবিতে মহাসড়কটি অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন। দুপুরে পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্জ করলে তারা ইট-পাটকেল মারতে শুরু করেন।
কাঁদানে গ্যাসে তাদের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এ সময় যানজটে আটকে পড়া কয়েকটি যানবাহনেও ইট-পাটকেল ছুড়ে ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্দরা।
পুলিশ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, “বিক্ষোভের এক পর্যায়ে শ্রমিকরা পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনের উপর চড়াও হয়ে ইট-পাটকেল মারতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে বিক্ষুব্ধদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।”

শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আসাদুজ্জামান বলেন, “মালিকপক্ষ আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দিলেও তা মানেননি শ্রমিকরা। হঠাৎ তারা আরও বিক্ষুব্দ হয়ে ওঠেন এবং ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন।
“পুলিশ-প্রশাসনের লোকজন প্রথমে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেয় এবং পরে অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।”
এ ঘটনায় আইনগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে এ বিষয়ে কথা বলতে কারখানার ওয়েবসাইটে দেওয়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জহিরুল হক ভূঁইয়ার মুঠোফোনের নম্বরটিতে একাধিকবার কল করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
ফলে কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
আগের সংবাদ