Published : 08 Sep 2025, 11:23 PM
নির্বাচনের প্রায় চার বছর পর কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন আ ন ম শহীদ উদ্দিন ছোটন; যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) আ ন ম নাসির উদ্দিনের আপন ছোট ভাই।
দ্বীপ উপজেলার এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে ১ সেপ্টেম্বর শপথ নেওয়ার ছয় দিন পর তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন।
তিন বছর আট মাস পর আদালতের নির্দেশে ভোট পুনঃগণনায় নৌকা প্রতীকের চেয়ে ১৮৯ ভোট বেশি পায় ছোটনের ঘোড়া প্রতীক।
পরে ১৪ অগাস্ট নির্বাচন কমিশন নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত আগের চেয়ারম্যান আবুল কালামের জয় বাতিল করে ছোটনকে চেয়ারম্যান হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করে।
কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ১ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিয়েছেন ছোটন।
পরে ৭ সেপ্টেম্বর বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও কুতুবদিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সাদাত হোসেনের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন তিনি।
এদিকে আগের চেয়ারম্যান আবুল কালামের অভিযোগ, ভাইয়ের (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) প্রভাব খাটিয়ে ছোটন চেয়ারম্যান হয়েছেন।

“তার (ছোটন) দেওয়া বক্তব্য খেয়াল করলেই দেখবেন তিনি যে ভাইয়ের প্রভাব খাটিয়েছেন তা পরিষ্কার। বিচারক বদলি করানো হয়েছে। সেখানেও দুইবারের মতো গণনা করানো হয়েছে।
“আমার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে; যা ষড়যন্ত্রমূলক। উচ্চ আদালত আমাকে জামিন দিয়েছে। পালিয়েও যাইনি, এলাকায় ছিলাম, আছি। কিন্তু যে কারণ দেখিয়ে এর আগে প্রশাসন থেকে চেয়ারম্যান পদ স্থগিত করা হয়েছিল, সেটা পড়লেই বুঝতে পারবেন। কারণ হিসেবে অনুপস্থিতি নয়, শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে।”
নতুন চেয়ারম্যান ছোটন জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও ২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীকে অংশ নেন।
নির্বাচনের দিন ইউনিয়নের ৭ নম্বর কেন্দ্রে সহিংসতায় একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ৩০ নভেম্বর পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কালামকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচনে হেরে সেই সময় ছোটন দুটি কেন্দ্রে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে ট্রাইবুনালে মামলা করেন। ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি এই মামলা করেন তিনি।
গত বছরের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুটি মামলার আসামি হন আগে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতা আবুল কালাম।
পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরলেও শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় কালামের চেয়ারম্যান পদ স্থগিত করে ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাদাত হোসেনকে।

চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিয়ে এলাকায় যাওয়ার পর ছোটন সাংবাদিকদের বলেন, “ফ্যাসিবাদীদের অন্যায় আবদারের কারণে এই বিচার বিভাগ আমার মামলাটা নিষ্পত্তি করতে পারেনি। তিন বছর আট মাস পর গণনায় ১৮৯ ভোট বেশি হওয়ায় আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে আদালত।”
তিনি বলেন, “হাই কোর্টের অর্ডার থাকার পরও মামলা নিষ্পত্তি হয়নি। অবশেষে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে। ১৮৯ ভোটে বিজয়ী ঘোষণার পর ৩০ দিনের মধ্যে গেজেট তৈরির জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
“তবে প্রতিপক্ষ আপিলের নামে নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে একটা দরখাস্ত করেন, যেখানে ৩০ দিনের মধ্যে গেজেট করার রায় থাকলেও তা স্থগিতের জন্য বলা হয়। আমি সেখানে যুক্তি দিয়েছি, আদালত রায় বড় নাকি প্রতিপক্ষের দরখাস্ত বড়। শুনানির পর প্রতিপক্ষের আবেদন নির্বাচন কমিশনে যথাযথভাবে খারিজ হয়ে যায়।
“খারিজ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে। পরে ওরা আবার একটি রিপিটেশন করে। যাতে গেজেট বাতিল এবং শপথ না হয়। শুনানি করার পর এটিও খারিজ হয়ে যায়। এই রিপিটেশন খারিজের মাধ্যমেই প্রতিপক্ষের সর্বশেষ লড়াই শেষ হয়।”