Published : 05 Dec 2025, 05:54 PM
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সন্ধান পাওয়া গেছে একটি ভেজাল চায়ের কারখানার। যেখানে নানা ধরনের গাছের পাতা গুঁড়ো করে তার সঙ্গে রং-রাসায়নিক মিশিয়ে ‘চা পাতা’ হিসেবে বিক্রি করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকালে শ্রীমঙ্গল থানাধীন সিন্দুরখান ইউনিয়নের কারখানাটি থেকে র্যাব শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের আভিযানিক দল ১ হাজার ৬৮০ কেজি ভেজাল চা জব্দ ও ধ্বংস করে বলে জানিয়েছেন র্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া কর্মকর্তা কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
এ সময় ভোক্তা অধিকার আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারখানার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শ্রীমঙ্গলে চা এর বিপণনকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ পর্যটকের জনসমাগম ঘটে এবং তারা দেশসেরা এই চা এর স্বাদ নিতে ছুটে আসেন এখানে। ক্রেতারা যাতে প্রতারিত না হয় সেই লক্ষ্যে নিয়মিত তদারকি করা হয়।

“এর অংশ হিসাবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-২, মৌলভীবাজার এবং মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের যৌথ দল বৃহস্পতিবার বিকালে সিন্দুরখান ইউনিয়নের হামিদপুরে জনৈক ভুট্টু মিয়ার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে।”
এ সময় তাদের বসত ঘরের উঠান থেকে ১ হাজার ৬৮০ কেজি নকল চা পাতা জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে ভুট্টু মিয়ার স্ত্রী জরিনা বেগম (৪৮) কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
শুক্রবার সকালে জব্দকৃত নকল চা পাতা পাশের খালে ফেলে ধ্বংস করা হয় বলেও জানান তিনি।

র্যাব শ্রীমঙ্গল ক্যাম্প কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বাগান থেকে কিছু কাঁচা চা পাতা চুরি করে আনতো। সেসব চা পাতার সঙ্গে অন্য পাতা ধান ভাঙার কলে ভেঙে গুঁড়া করতো। পরে এর সঙ্গে রং, ফ্লেভার এবং রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে ভেজাল চা পাতা তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিল।
শ্রীমঙ্গলের চা ব্যবসায়ী সমিতির নেতা ইসলাম সাইফুল বুলবুল বলেন, এখানকার চা-শিল্পের ইতিহাসের প্রায় ২০০ বছরের। মৌলভীবাজার জেলা দেশের চা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এখানে দেশের বেশিরভাগ চা বাগান রয়েছে। যার সংখ্যা ৯২টি। আর শ্রীমঙ্গল অঞ্চলকে চায়ের রাজধানীও বলা হয়।
“একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল চা বাজারজাত করে শ্রীমঙ্গলের প্রকৃত চায়ের সুনাম নষ্ট করে আসছিল। একাধিকবার র্যাব, চা বোর্ড, ভোক্তা অধিকার ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে তারা ধরা পড়লেও থেমে থাকেনি।”
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল হবিগঞ্জ রোডের ‘চক্রবর্তী টি’ এর স্বত্তাধিকারী বিধান চক্রবর্তী বলেন, শ্রীমঙ্গলের চায়ের একটা সুনাম আছে। এদের কারণে শ্রীমঙ্গলের চায়ের ঐতিহ্য হারাবে।

শ্রীমঙ্গলের প্রবীণ চিকিৎসক সত্যকাম চক্রবর্তী বলেন, “এই ভেজাল চা মানবদেহের জন্য নিঃসন্দেহে ক্ষতিকর। কারণ এখানে বিভিন্ন গাছের পাতা গুঁড়া করে এর সাথে রং ও কেমিক্যাল মিশানো হয়েছে। রং-ক্যামিকেল মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর।
“বিশেষ করে এগুলো খাদ্যনালী, লিভার, কিডনি ও মুত্রথলীর ক্ষতি করে। অনেক ক্ষেত্রে মানবদেহের কোষগুলোর জীবনকাল কমিয়ে দেয় এবং দীর্ঘ সময় অবস্থানের ফলে ক্যান্সারের জীবানু সৃষ্টি করে।”
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মেজিস্ট্রেট ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহাকারী কমিশনার মো. মহিবুল্লাহ আকন জানান, “ভেজাল চা পাতা তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল চা পাতা জব্দ করি এবং তা তৈরীর মেশিন ও পাতা ধ্বংস করেছি। একজনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়।
এ জাতীয় কর্মকাণ্ড যারাই করবে তাদের কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।