পরিবারের তিনজনকে হারিয়ে বাকি সদস্যরা বাকরুদ্ধ।
Published : 02 Apr 2025, 06:18 PM
চট্টগ্রামের লোহাগড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় কুষ্টিয়ার একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পরিবারের আরও দুই সদস্য।
খবর পেয়ে পরিবারের অন্য পুরুষ সদস্য ও স্বজনরা হতাহতদের খোঁজে ছুটে গেছেন বলে দুই প্রতিবেশী জানান।
নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়া সদরের বিসিক কুমারগাড়ার যতীন মণ্ডলের ছেলে আশীষ মণ্ডল (৫০) ও মেয়ে সাধনা বিশ্বাস (৩৭) এবং সাধনার স্বামী কুমারখালী উপজেলার পান্টি গ্রামের দুলাল বিশ্বাসের ছেলে দিলীপ বিশ্বাস (৪৩)।
নিহত দিলীপ-সাধনা দম্পতির ছয় বছর বয়সী মেয়ে আরাধ্যা বিশ্বাস ও সাধনার ভাইপো দুর্জয় মণ্ডল (১৮) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
ঈদের ছুটিতে কুষ্টিয়া থেকে মাইক্রোবাসে পরিবার নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের লোহাগড়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ১০ জন। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ার এই পরিবারের তিনজন।
বুধবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে চট্টগাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়ায় চট্টগ্রামগামী রিলাক্স পরিবহনের বাসের সঙ্গে কক্সবাজারমুখী মাইক্রো বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়।
পরে আহতদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেলে দুইজন ও লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজনের মৃত্যু হয়।
নিহতের প্রতিবেশী কুষ্টিয়ার বিসিক কুমারগাড়ার নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “এ মুহূর্তে নিহতদের নিকটতম আত্মীয়রা সবাই লাশ আনতে চট্টগ্রাম গেছেন। তারা লাশ নিয়ে ফিরে এলে আরও বিস্তারিত জানতে পারব।”
আরেক প্রতিবেশী গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মঙ্গলবার রাতে আশীষ মণ্ডল তার পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটি উপভোগ করতে কক্সবাজারে রওনা হন। বুধবার সকালে আমরা জানতে পারি, তাদের মাইক্রো বাসটি দুর্ঘটনায় পড়েছে। পরে এক এক করে জানতে পারি, ওই ঘটনায় ১০ জন মারা গেছে, তাদের মধ্যে এ পরিবারের তিনজন নিহত এবং দুইজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।”
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মো. মোশারফ হোসেন বলেন, “চট্টগ্রামের লোহাগড়া এলাকায় মাইক্রো বাস দুর্ঘটনায় কুষ্টিয়ার একই পরিবারের পাঁচজনের হতাহতের সংবাদ পেয়েছি।”
এদিকে, এই ঘটনায় পরিবারের বাকি সদস্যরা বাকরুদ্ধ। লাশগুলো এখনো এসে না পৌঁছায় বাড়িটিতে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা।
আরো পড়ুন:
লোহাগাড়ার দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে তিন জন এক পরিবারের
চট্টগ্রামে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষ: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০