কক্সবাজার বেড়াতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি এলাকায় বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যান ১০ জন।
Published : 02 Apr 2025, 09:56 PM
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে তার মধ্যে তিনজন ঝিনাইদহের একই পরিবারের সদস্য। এরমধ্যে স্বামী-স্ত্রী মারা গেছেন। ‘অলৌকিকভাবে’ বেঁচে যাওয়া তাদের একমাত্র মেয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
একমাত্র ছেলে দিলীপ বিশ্বাস ও পুত্রবধূ সাধনা বিশ্বাসের মৃত্যু কোনোভাবেই মানতে পারছেন না শৈলকুপা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের দুলাল বিশ্বাস ও উল্লাসি রানী বিশ্বাস।
দুর্ঘটনার খবর বাড়িতে আসে বুধবার দুপুরের পর পরই। বাড়িতে শুধু দুলাল বিশ্বাস ও স্ত্রী উল্লাসি রানী বিশ্বাসই থাকেন। প্রতিবেশীরাই ছেলে ও পুত্রবধূর মৃত্যুর খবর নিয়ে আসেন। তারপর থেকে সেই বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। প্রতিবেশী যারা সান্ত্বনা দিতে আসছেন তারাও স্থির থাকতে পারছেন না। যে যেভাবে পারেন নিহত দম্পতির সাত বছরের একমাত্র মেয়ে আরাধ্য বিশ্বাসের খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বিকালে তাদের গ্রামের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, বাড়িভর্তি প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন। তারা মরদেহের অপেক্ষায় আছেন। বাড়িতে উল্লাসি রানি বিলাপ করছিলেন।
উল্লাসি রানী বারবার ছেলের নাম ধরে ডেকে ডেকে বলছিলেন, “এই তোরা রান্না কর, আমার মনি বাড়ি আসছে।”
মঙ্গলবার রাতে ছেলে ও পুত্রবধূর সঙ্গে কথা হয় উল্লাসি রানীর। তখন পুত্রবধূ পাহাড় আর সমুদ্র দেখতে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
উল্লাসি রানী বিলাপ করে বলছিলেন, “আমার মনি পাহাড় দেখতে গেছে।”
তিন বোনের এক ভাই ছিলেন দিলীপ বিশ্বাস। তিন বোনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। দিলীপ ঢাকায় একটি বায়িং হাউজে কাজ করতেন। ঈদের ছুটিতে স্ত্রী আর মেয়ের সঙ্গে সমুদ্র-দর্শনে সঙ্গে নিয়েছিলেন স্ত্রীর বড় ভাই আশীষ মণ্ডলকেও (৫০)।
মাইক্রোবাসে করে পরিবার নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি এলাকায় বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যান ১০ জন।
সকাল সোয়া ৭টার দিকে চট্টগাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়ায় চট্টগ্রামগামী রিলাক্স পরিবহনের বাসের সঙ্গে কক্সবাজারমুখী মাইক্রো বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়।
পরে আহতদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেলে দুইজন ও লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজনের মৃত্যু হয়।
প্রতিবেশী ও পরিবারের লোকজন বলছিলেন, দিলীপের উপরই নির্ভরশীল ছিল পরিবারটি। বাবা-মা বাড়িতে থাকলেও তিনি প্রতি মাসেই খরচের টাকা পাঠাতেন।
একমাত্র মেয়ে আরাধ্য এখন কেমন আছে সেটা কেউ জানেন না। মেয়েটির চিকিৎসার খরচ আর পরিবারটি এখন কীভাবে চলবে সেটাই নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছেন দিলীপের বোনেরা।
শৈলকূপা থানার ওসি মাসুম খান বলেন, বার্তা পেয়ে তারা নিহতদের গ্রামের বাড়িতে খোঁজ-খবর নিয়েছেন।