“অন্তত ছয় থেকে সাত লাখ টাকায় কলা বিক্রি করতে পারতাম। আমি জানি না কীভাবে এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠবো।”
Published : 03 Apr 2025, 06:40 PM
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় এক চাষির ৫০০ কলা গাছ পুরোপুরি কেটে ফেলা হয়েছে; কুপিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে বাগানের আরও অনেক গাছের কাঁদি।
ভুক্তভোগী চাষির অভিযোগ সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে ‘চাঁদা না দেওয়ায়’ এমন ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।
মুক্তাগাছা থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বিজয়পুর এলাকায় এ ঘটনার পর কলাচাষি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী কলাচাষী ইসমাইল হোসেনের ঘোগা ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে তার বাগানে দেখা যায়, সারি সারি কলাগাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। বাগানের একাংশ জুড়ে শুধু গাছের গোড়া পড়ে আছে। এছাড়া বেশ কিছু গাছের কাচা কলার কাঁদি কেটে ফেলা হয়েছে। দাঁড়িয়ে থাকা কিছু গাছেও দেখা গেল কোপের চিহ্ন।
বাগান মালিক ইসমাইল হোসেন বলেন, “আমি ১৭ বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছি। ৩০০০টি গাছ কলায় ভরপুর ছিল৷ সেখান থেকে প্রায় ৫০০ কলাসহ গাছ কেটে ফেলেছে দুলাল মেম্বার ও তার ছেলেরাসহ আরও অজ্ঞাত লোকজন।”
তিনি অভিযোগ করেন, “কিছুদিন আগে দুলাল মেম্বার আমাদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। না দিলে নানা ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দিতে থাকেন।
“বৃহস্পতিবার সকালে শুনতে পাই দুলাল মেম্বার লোকজন নিয়ে কলা বাগান কেটে ফেলছে। দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখতে পাই তারা রামদা দিয়ে কলাগাছে এলোপাতাড়ি কোপ দিচ্ছে। কখনো কলা গাছের মাঝে, কখনো কলার ছড়িতে কোপাতে থাকে। বাধা দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।”
তিনি বলেন, “আমি কয়েকদিনের মধ্যে কলা বিক্রি শুরু করতে চেয়েছি। অন্তত ছয় থেকে সাত লাখ টাকায় কলা বিক্রি করতে পারতাম। আমি জানি না কীভাবে এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠবো।”
ক্ষতিগ্রস্ত ইসমাইল হোসেন আরও বলেন, “তারা বাকি গাছগুলোও কাটার পায়তারা করছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
তবে চাঁদা দাবির কথা অস্বীকার করে দুলাল মেম্বার বলেন, “আমরা কারও বাগান নষ্ট করিনি। ওয়ারিশসূত্রে ওই জমি আমাদের। আমরা ওই জমি পরিষ্কার করে হলুদ লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। ”
মুক্তাগাছা থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “কৃষকের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”