আরকানসয়ের গভর্নর সারা হাকাবি স্যান্ডার্স টর্নেডোর পাশাপাশি শিলাবৃষ্টি ও অতিভারী বর্ষণ হওয়ায় রাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
Published : 03 Apr 2025, 04:03 PM
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা টর্নেডোর আঘাতে ও ভারি বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং বহু গাছ উপড়ে পড়েছে।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, বুধবার রাত পর্যন্ত অন্তত চারটি অঙ্গরাজ্যে ১৫টি টর্নেডোর খবর পাওয়া গেছে।
কেন্টাকি ও আরকানসতে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কেন্টাকির ব্যালার্ড কাউন্টিতে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রয়টার্স লিখেছে, বুধবার গভীর রাতে আরকানসয়ের গভর্নর সারা হাকাবি স্যান্ডার্স টর্নেডোর পাশাপাশি শিলাবৃষ্টি ও অতিভারী বর্ষণ হওয়ায় রাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
এনডব্লিউএস জানিয়েছে, লাখো মানুষ টর্নেডো ও হঠাৎ বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এই বিপদ অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কয়েকদিন ধরে প্রবল ঝড়বৃষ্টি চলতে পারে। ‘বেশ কয়েকদিনের বিপর্যয়কর ও সম্ভাব্য ঐতিহাসিক ভারি বৃষ্টিপাতের ঘটনা’ বুধবার থেকে কেবল শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
"আজ রাতের আবহাওয়া পরিস্থিতি এককথায় বিশৃঙ্খল," বলেন এনডব্লিউএস-এর আবহাওয়াবিদ স্কট ক্লেবাউয়ার।
মিজৌরি অঙ্গরাজ্যের নেভাডা শহরেও একটি টর্নেডো আঘাত হানে। রাজ্যের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছে, "শহরের বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং ট্রেনের খালি কয়েকটি বগি প্রবল ঝড়ে উল্টে গেছে!"
এনডব্লিউএস মিজৌরি, আরকানস, টেনেসি, মিসিসিপি, ইন্ডিয়ানা, ইলিনয়, কেন্টাকি ও ওকলাহোমার কিছু অংশে টর্নেডো ও হঠাৎ বন্যার সতর্কতা জারি করেছে।
বিশেষত আরকানস, মিজৌরি, টেনেসি ও মিসিসিপিতে আসন্ন বৃষ্টিপাতে ‘এক প্রজন্মে একবার দেখা যায় এমন বন্যার ঘটনা’ ঘটতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছে এনডব্লিউএস।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এই অঙ্গরাজ্যগুলোর কিছু এলাকায় শনি, রোববারের মধ্যে ১৫ ইঞ্চি (৩৮.১ সেমি) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা নদীর পানি উপচে বিপর্যয়কর বন্যার কারণ হতে পারে।
বিদ্যুৎ সংক্রান্ত একটি ওয়েব সাইটের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়বৃষ্টিতে ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চলগুলোর চার লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন।