ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচ দিল্লিতে হবে আগামী নভেম্বর মাসে, যে সময়টায় এই শহরের বায়ুদূষনের মাত্রা ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছেছে গত কয়েক বছরে।
Published : 04 Apr 2025, 09:22 AM
দিল্লির বায়ুদূষণ বেশ কয়েক বছর ধরেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিশ্বজুড়ে। বিশেষ করে, নভেম্বর মাসে এই দূষণ পৌঁছে যায় ভয়ঙ্কর মাত্রায়। অথচ সেই মাসেই এই শহরে রাখা হয়েছে টেস্ট ম্যাচ! ভারতের আগামী ঘরোয়া মৌসুমের সূচি প্রকাশের পর থেকেই এটি নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। ভারতীয় বোর্ড ও দিল্লির ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন বলছে, সবকিছু ভালোভাবেই সামাল দিতে পারবে তারা।
সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৪ নভেম্বর ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে দিল্লির আরুন জেটলি স্টেডিয়ামে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এই সময়টাতেই দিল্লির দূষণ ছিল চরমে। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স তখন ৪০০ ছাড়িয়েছে নিয়মিতই।
বাতাসের গুণমান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) যদি ৫১ থেকে ১০০ হয়, তখন এটিকে ‘মাঝারি’ বা ‘গ্রহণযোগ্য’ মানের বায়ু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল শ্রেণীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ধরা হয়। ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তাকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু ধরা হয়।
স্কোর তিনশর বেশি হলে এটিকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়। চারশ ছাড়িয়ে গেলে তা হয় ‘ভয়ঙ্কর’ বা ‘মারাত্মক’ (সিভিয়ার)।
গত ১৮ নভেম্বর দিল্লির একিউআই ছিল সরকারি হিসেবে ৯৯৯। তবে বায়ুর মান বিষয়ক সুইস প্রযুক্তি কোম্পানি আইকিউএয়ার-এর হিসাবে সেদিন দিল্লির একিউআই ছিল ১৬০০।
তাতে প্রায় জরুরি অবস্থা বা লকডাউনের মতো পরিস্থিতি ছিল দিল্লিতে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজনকে বাইরে বের হতে না করা হয়েছিল।
মূলত পাঞ্জাব, হারিয়ানা ও উত্তর প্রদেশের বেশ কিছু অঞ্চলে কৃষিজমিতে নাড়া (ফসলের গোড়া) আর খড়বিচালি পোড়ানোর কারণেই দিল্লিতে দূষণ বাজে অবস্থায় থাকে নভেম্বর-ডিসেম্বরে।
ক্রিকেটে দূষণের প্রভাব পড়ার নজিরও আছে বেশ কিছু। ২০১৬ সালের নভেম্বরে দিল্লিতে রাঞ্জি ট্রফির দুটি ম্যাচ বাতিল করা হয়েছিল। ক্রিকেটারদের অনেকের তখন মাথাব্যাথা ও চোখে জ্বলুনি হয়েছিল। পরের বছর ভারত-শ্রীলঙ্কা টেস্ট ম্যাচে লঙ্কান ক্রিকেটারদের কয়েকজনকে মাস্ক পরে মাঠে নামতে দেখা গেছে। দূষণের কারণে খেলা বাধাগ্রস্তও হয়েছে কয়েক দফায়।
২০১৯ সালের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সময় বাংলাদেশের দুজন ক্রিকেটার মাঠেই বমি করে ফেলেন। চার বছর পর ২০২৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ এখানে ছিল নভেম্বরেই। সেবারও দূষণ নিয়ে আলোচনা ছিল তুমুল। দূষণের কারণে একদিনের অনুশীলন বাতিল করেছিল বাংলাদেশ দল। ম্যাচ নিয়েও ছিল শঙ্কা। নানা ব্যবস্থা নেওয়ার পর অবশ্য ম্যাচটি উতরে গিয়েছিল কোনোরকমে।
বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) সচিব দেভাজিত সাইকিয়া ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, এবারও ম্যাচ ভালোভাবেই হবে বলে তাদের বিশ্বাস।
“সম্ভাব্য সব দিক আমরা বিবেচনা করেছি এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে পর্যায়ক্রমিক নীতি ধরে রাখার পথেই গিয়েছি। দূষনের ব্যাপারটি প্রতি বছরই হয় না।”
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটি দিয়ে টেস্ট ভেন্যু হিসেবে যাত্রা শুরু করবে গুয়াহাটির বার্সাপারা স্টেডিয়াম। ভারতের ৩০তম টেস্ট ভেন্যু হবে এটি। এর মধ্যে ১৫টি স্টেডিয়াম এখনও দারুণভাবে সক্রিয় আছে। তারপরও কেন দিল্লিতেই বছরের এই সময়টায় টেস্ট ম্যাচ রাখতে হবে, এই প্রশ্ন উঠছে ভারতীয় ক্রিকেটেই।
দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্টস ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সচিব আশোক শার্মার দাবি, স্টেডিয়ামের অঞ্চলে বাতামের মান ততটা খারাপ থাকে না
“টেস্ট ম্যাচের সময় ক্রিকেটাররা যেন স্বস্তিতে থাকেন, এজন্য সব ব্যবস্থাই নিশ্চিত করা হবে। আরুন জেটলি স্টেডিয়াম তূলনামূলকভাবে খোলা জায়গায় অবস্থিত, যেখানে চারপাশে সবুজের সমারোহ বেশি। অন্যান্য এলাকার চেয়ে এখানে বাতাসের মান ভালো।”
“দিল্লিতে বেশ কিছুদিন ধরেই কোনো টেস্ট ম্যাচ রাখা হচ্ছে না। এবার বিসিসিআই আমাদের একটি টেস্ট ম্যাচ দিয়েছে, সেই সূচি অনুসরণ করতে হব আমাদের। দূষণ যদি হয়ই, ডিসেম্বরের চেয়ে তা নভেম্বরেই কম থাকে।”
ভারতের মূল টেস্ট ভেন্যুগুলোতে পর্যায়ক্রমে খেলা রাখে ভারতীয় বোর্ড। তবে দিল্লিতে ২০১১ সালের পর নভেম্বর মাসে আর টেস্ট ম্যাচ রাখা হয়নি। এই ১৪ বছরে কেবল চারটি টেস্ট হয়েছে ভারতের রাজধানী শহরটিতে। একটি হয়েছে মার্চে, দুটি ডিসেম্বরে এবং একটি ফেব্রুয়ারিতে। গত আট বছরে এখানে একটিই টেস্ট ম্যাচ হয়েছে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।